ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ! এসআইআর মামলার জট কাটাতে নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জট কাটতে চলেছে। এসআইআর সংক্রান্ত কতগুলি আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে এবং কতগুলির সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
এদিন শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, এসআইআর ট্রাইব্যুনালে যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তা ঠিক কোন পদ্ধতিতে সমাধান করা হচ্ছে তা জানাতে হবে। পাশাপাশি, এই মুহূর্তে কাজের চাপ সামলাতে ঠিক কতগুলি ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন, সেই হিসেবও চেয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া সংক্রান্ত আবেদন ও পাল্টা আবেদনগুলিকে সঠিকভাবে ভাগ করে জনসমক্ষে সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হবে।
মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ঠিক কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে বা বাকি আছে, তা সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন না। কারণ এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। সামনেই একাধিক নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, প্রার্থীরা জিতবেন না হারবেন, তার ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। তিনি জানান যে ইতিমধ্যে ৩১টি বিধানসভা আসনের তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
তখন বেঞ্চ মন্তব্য করে যে বিষয়টি মাত্র ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আদালতের সাফ কথা, দেশের সমস্ত নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা তাদের লক্ষ্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে আরও নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আরেক মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করানারায়ণন একটি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনের জবাবের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, একজন সাংসদের করা আরটিআই-এর মাধ্যমে যে তথ্য সামনে এসেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআর অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন পড়ে রয়েছে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৩ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আদালতকে জানান যে বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কমিশন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। এর আগে গত ১১ অগস্ট এবং ২৪ এপ্রিলের শুনানিতেও ট্রাইব্যুনালে জমা থাকা লক্ষাধিক অভিযোগ ও দাবিদাওয়া জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের প্রায় ৭০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক বর্তমানে এই বিশাল মামলার জট কাটানোর কাজে যুক্ত রয়েছেন।