৮ম বেতন কমিশন: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১ হলেও এক ধাক্কায় কতটা বাড়বে কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেতন? জানুন পুরো হিসাব

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন হওয়ার পর থেকেই কর্মীদের নজর এখন মূলত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের (Fitment Factor) দিকে। যদিও বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের তরফে ৫.৭ থেকে শুরু করে ২.৮৬ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর যদি অন্তত ২.১ হয়, তবেও কর্মচারীদের বেতন অনেকটাই বাড়বে।

আসলে কী এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর?

সহজ কথায়, যেকোনো পে কমিশনের ক্ষেত্রে মূল বেতন বা বেসিক পে পুনর্নির্ধারণের জন্য যে গুণকটি ব্যবহার করা হয়, তাকেই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বলা হয়। মূলত সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন ও ভাতা এই গুণকের ওপর সরাসরি নির্ভর করে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের মান যত বেশি হবে, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণও ততটাই বেশি হবে। হিসাবের ফর্মুলাটি হলো— বর্তমান বেসিক পে × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = নতুন বেসিক পে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১ হলে কত টাকা বাড়বে বেতন?

সপ্তম বেতন কমিশনের সময় ন্যূনতম মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছিল ১৮,০০০ টাকা। যদি অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১ ধরা হয়, তবে সেই হিসাব অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন গিয়ে দাঁড়াবে ৩৭,৮০০ টাকায় (১৮,০০০ × ২.১)।

অর্থাৎ বর্তমান বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭,৮০০ টাকা হলে সরাসরি ১৯,৮০০ টাকার ফারাক তৈরি হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ন্যূনতম বেতনের ক্ষেত্রে এই সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রায় ১১০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিতে পারে।

কর্মী সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি

এই প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মনজিত সিং প্যাটেল জানিয়েছেন, কমিশন যদি শেষ পর্যন্ত ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরও ধার্য করে, তবে তাতেও ন্যূনতম বেতন যথেষ্ট সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাঁর মতে, প্রথম নজরে এই সংখ্যাটি ছোট মনে হলেও এর প্রভাবে পকেটে আসার মতো একটি বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি ঘটে।

তিনি পুরনো উদাহরণ টেনে ব্যাখ্যা করেন যে, সপ্তম বেতন কমিশন ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে ৭,০০০ টাকা মূল বেতনের সঙ্গে আরও অর্থ যুক্ত করে তাকে ১৮,০০০ টাকায় উন্নীত করেছিল। তবে সেই সময়ে কর্মীরা সমান্তরালভাবে মহার্ঘ ভাতাও (DA) পাচ্ছিলেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মীদের বেতন কাঠামোতে তার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত জল্পনা কাটিয়ে অষ্টম বেতন কমিশন শেষ পর্যন্ত ঠিক কী সুপারিশ করে এবং সরকার তাতে কী সিলমোহর দেয়।