টাকা আটকে রেখে চরম বিপাকে আয়কর বিভাগ! দিল্লি হাইকোর্টের কড়া ধমকে বিরাট স্বস্তি পেল ভোডাফোন আইডিয়া

কর ফেরত সংক্রান্ত বিষয়াদি সামলানোর ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগের মনমানসিকতা ও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে বিভাগটিকে তীব্রভাবে তিরস্কার করে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রযোজ্য সুদসহ ভোডাফোন আইডিয়া (Vodafone Idea)-র সমস্ত বকেয়া অর্থ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। হাইকোর্টের এই কড়া পদক্ষেপে দেশের টেলিকম বাজারের অন্যতম প্রধান এই সংস্থাটি যে বিরাট স্বস্তি পেল, তা বলাই বাহুল্য।
হাইকোর্টের কঠোর অবস্থান ও ডেডলাইন গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি দীনেশ মেহতা এবং বিচারপতি রজনীশ কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোডাফোন আইডিয়াকে অবিলম্বে সুদসহ ৫৩.০৯ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে এই টাকা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে টাকা জমা না পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিধিবদ্ধ সুদের অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি মাসে আরও ১ শতাংশ করে বাড়তি সুদ দিতে হবে।
পুরো আইনি লড়াইয়ের নেপথ্য কাহিনি ২০০৩-০৪ থেকে ২০১৩-১৪ মূল্যায়ন বর্ষের মধ্যবর্তী কর ফেরত নিয়ে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছে ভোডাফোন আইডিয়া। গত বছর এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল কোম্পানির পক্ষে পরপর বেশ কয়েকটি রায় দেয়। সেই রায়গুলির ভিত্তিতেই মূল্যায়ণকারী কর্মকর্তা ফেরতের পরিমাণ ৫৩.০৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করেন। কিন্তু অক্টোবর ২০২৪ এবং মে ২০২৬-এ রিফান্ড মঞ্জুর হওয়া সত্ত্বেও সেই টাকা হাতে পায়নি কোম্পানি। উল্টে ফর্ম ২৬বি পূরণ করা এবং ৯২৪.৫৭ কোটি টাকার পুরানো বকেয়া দাবির অজুহাত দেখিয়ে টাকা আটকে রাখা হয়।
যদিও আদালত শুনানির সময় পরিষ্কার করে দেয় যে, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও আদালত আগেই ওই বকেয়ার মধ্যে ৯১৩.৬৬ কোটি টাকা আদায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নিয়ম বা পুরনো বকেয়ার অজুহাতে করদাতার প্রাপ্য অর্থ আইন বহির্ভূতভাবে আটকে রাখা সম্পূর্ণ ভুল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই মামলায় আয়কর বিভাগের উপর আরও অনেক বেশি কঠোর জরিমানা আরোপ করা উচিত ছিল। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে আগামী দিনে পুরোনো টিডিএস সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে এবং করদাতাদের অযথা আইনি হয়রানি থেকে বাঁচাতে বড় ধরনের পথ প্রশস্ত করল।