মার্কিন মুলুকে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? এইচ-১বি ভিসার নতুন নিয়মে মাথায় হাত পড়ল পড়ুয়াদের!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে এইচ-১বি ভিসার জন্য একটি নতুন এবং বিশাল অংকের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১০৩,২৬৫ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকারও বেশি ফি বাবদ প্রদান করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে যাঁরা সেখানে কর্মজীবন গড়তে ইচ্ছুক, তাঁদের সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে এই প্রস্তাবটি। যদিও এই বিপুল পরিমাণ ফি শিক্ষার্থীকে নিজে পকেট থেকে দিতে হবে না, বরং যে কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে এইচ-১বি ভিসার আবেদন করবেন, তাঁকেই এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা কেন প্রভাবিত হবেন? সাধারণত বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী এফ-১ (F-1) ভিসার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁদের অনেকেই সেখানে চাকরি করতে চান এবং এর জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর ভরসা করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো কোম্পানি তাঁর জন্য আবেদন করলে, সেই সংস্থাকেই এই ভারী ফি দিতে হবে। মাস্টার্স বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
কোম্পানি ফি দিলে সমস্যা কোথায়? ফি সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের দিতে না হলেও, অতিরিক্ত এই খরচের বোঝা কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কর্মী বা সদ্য পাশ করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগের আগে দুবার ভাবতে বাধ্য করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করা তরুণ প্রতিভাদের চাকরির সুযোগ বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের আগের ১ লক্ষ ডলারের প্রস্তাবিত ফি থেকে এবারের কাঠামোটি কিছুটা আলাদা। এটি মূলত মার্কিন মুলুকে ইতিমধ্যে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক কোটাভিত্তিক আবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি প্রস্তাবনা মাত্র। চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (DHS) একটি জনমত যাচাই পর্ব বা পাবলিক কনসালটেশন প্রসেস সম্পন্ন করতে হবে।