উপসাগরীয় সংকটে বড়সড় চাল ভারতের! মার্কিন মুলুক থেকে এলপিজি-এলএনজি আমদানিতে রেকর্ড গড়ল দিল্লি

পশ্চিম এশিয়ার চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে দেশের জ্বালানি কৌশলে এক সুদূরপ্রসারী ও বড়সড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ভারত। এতদিন ধরে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের জন্য মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হলেও, বর্তমান সংকটের মাঝে ভারত বিকল্প হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকেছে। সমুদ্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণে এলপিজি ও এলএনজি আমদানি করছে।

আমেরিকা থেকে গ্যাস আমদানির চিত্র পরিসংখ্যান বলছে, চলতি আগস্ট মাসেই ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬.২ লক্ষ টন বা ০.৬২ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করেছে, যা ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৭৩ শতাংশেরও বেশি। এর আগে জুলাই মাসেও প্রায় ০.৮৯ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছিল। অথচ একসময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী হলেও আগস্ট মাসে সেখান থেকে আমদানি কমে মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার টনে নেমে এসেছে। কাতার সরবরাহ করেছে মাত্র ৬০ হাজার টন, এবং সৌদি আরব এই দুই মাসে কোনো এলপিজি সরবরাহ করতেই পারেনি। এলএনজির ক্ষেত্রেও ছবিটা একই রকম, যেখানে কাতার থেকে সরবরাহ একসময় প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই প্রায় ০.৭৫ মিলিয়ন টন এলএনজি সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরিবহন খরচ ও তেলের বাজারে রাশিয়ার ভূমিকা বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সুপরিচিত পথ ছেড়ে দূরবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই জ্বালানি সংগ্রহ করার ফলে ভারতের আমদানি বিল ও পরিবহনের ক্ষেত্রে মালবাহী ও বীমা খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে সরকারকে।

অন্যদিকে, গ্যাসের বাজারে আমেরিকার ওপর নির্ভরতা বাড়লেও অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর ভারতের পুরনো নির্ভরতা আজও সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলির নানাবিধ নিষেধাজ্ঞার চাপ ও রাজনৈতিক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে ভারত আগস্ট মাসেও রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উভয় দিক থেকেই এই মুহূর্তে রাশিয়ার তেলের কোনো সহজ বিকল্প নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।