চিনির আকাশছোঁয়া দামে বাজারে হাহাকার! উত্তরপ্রদেশে কী এমন ঘোষণা করলেন যোগী আদিত্যনাথ?

চিনির দামে আকস্মিক উল্লম্ফনে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে যখন সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে দেশে চিনির কোনো ঘাটতি নেই এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে তাঁর রাজ্যে চিনির কোনো অভাব নেই এবং প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মজুত রয়েছে।
সম্প্রতি লখনউতে ৩,৪৪৬ জন টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ১২৬ জন মান্ডি সচিবের হাতে নিয়োগপত্র বিতরণ করার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা দেশ জুড়ে যখন চিনির সংকট নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে, তখন উত্তরপ্রদেশের বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সেখানে চিনির ন্যূনতম কোনো ঘাটতি নেই। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে রাজ্যের গুদামগুলিতে এই মুহূর্তে ২৮ লক্ষ টন চিনি মজুত রয়েছে।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ফের চালু হচ্ছে চিনিকলগুলো: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের চিনির চাহিদা ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশের মোট মাসিক চিনির চাহিদা মাত্র ৪ লক্ষ টন। সেই তুলনায় তাঁদের কাছে বর্তমানে ২৮ লক্ষ টন চিনি মজুত রয়েছে, যার অর্থ হলো রাজ্যের মানুষের জন্য প্রায় সাত মাসের সুরক্ষিত চিনির স্টক ইতিমধ্যেই প্রস্তুত আছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে রাজ্যের সমস্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু হতে চলেছে। এর ফলে চিনিকলগুলোর হাত ধরে আগামী দিনে প্রায় ৯০ লক্ষ টন বা ৯০০ লক্ষ কুইন্টাল চিনি উৎপাদিত হবে। উত্তরপ্রদেশের মতো বিশাল রাজ্যের কাছে এত বিপুল পরিমাণ চিনি উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আরও জোরালো ভাষায় বলেন যে, উত্তরপ্রদেশের শুধু নিজস্ব রাজ্যের ২৫ কোটি মানুষেরই নয়, বরং সমগ্র দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়ার মতো অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও উৎপাদনে কারিগরি সহায়তা প্রদানে নবনিযুক্ত তরুণরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও বিশেষ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কোনো রকম দুর্নীতি ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাটাই প্রশাসনের কাছে একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম মেনে, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে তাঁদের সরকারের আমলের বিভিন্ন কমিশন ও বোর্ডগুলো এই কাজ অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, যখন সরকার কোনো রকম স্বজনপোষণ বা বৈষম্য ছাড়াই নিখুঁতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে, তখন তার সুফল পুরো রাজ্যবাসী ভোগ করে। এর ফলে গোটা রাজ্যে তরুণদের প্রতিভা ও কর্মশক্তির সঠিক সদ্ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায় এবং বিগত কয়েক বছরে ডাবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রধান একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সাফল্য।
আগামী ৬ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ যুবক সরকারি চাকরি পাবে: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
পূর্ববর্তী সমাজবাদী পার্টি (এসপি) সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, তিনি রাজ্যজুড়ে সমস্ত বেকার যুবকদের সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বাস দিচ্ছেন যে আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রতি সপ্তাহে ১ লক্ষ করে যুবককে নতুন সরকারি নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, তাঁদের সরকার বিগত বছরগুলিতে ৯ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি তরুণকে চাকরি প্রদানে সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। অথচ ২০১৭ সালের আগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একশ্রেণির নেতারা এবং তাঁদের পরিবার রাজ্যে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ত, যার ফলে রাজ্যের উদীয়মান যুবকদের মূল্যবান সময় চিরতরে নষ্ট করা হচ্ছিল। তাই বর্তমান সরকার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।