ভর্তি থেকে থিসিস জমা— আকাশছোঁয়া ফি বাড়াল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়! ক্ষোভে ফুঁসছেন গবেষকরা

গবেষণা ক্ষেত্রে ফি বৃদ্ধির এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সাম্প্রতিক সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, পিএইচডিতে ভর্তির ফি এক ধাক্কায় ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা সরাসরি ১০ গুণ বৃদ্ধি। শুধু তাই নয়, রেজিস্ট্রেশন ফি ৫৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা এবং কোর্সওয়ার্কের জন্য ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে, যেখানে ৩,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ফি সরাসরি ১৫,০০০ টাকা করা হয়েছে— যা আগের পরিমাণের তুলনায় প্রায় চারগুণেরও বেশি।

গবেষণার বিভিন্ন খাতে এই বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ স্কলার্স অ্যাসোসিয়েশন (CURSA)। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। CURSA-র স্পষ্ট দাবি, ফি বাড়ালেই গবেষণার মান রাতারাতি উন্নত হয় না; বরং এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিকাঠামো। অনেক বিভাগেই প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারের সুবিধা না থাকায় গবেষকদের অন্য বিভাগ বা বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও অ্যাকাডেমিক ডেটাবেসে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার না থাকায় মৌলিক গবেষণা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মুখে পড়েছেন নন-ফেলোশিপ গবেষকরা। কোনো রকম আর্থিক সহায়তা বা ফেলোশিপ না থাকায় এই স্কলারদের সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে গবেষণা চালাতে হয়। একলপ্তে ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও থিসিস জমার ফি এতটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেধাবী অথচ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু পড়ুয়ার গবেষণা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশোধিত ফি কাঠামো অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা, নন-ফেলোশিপ গবেষকদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং পুরোনো গবেষকদের পূর্বের ফি কাঠামোর আওতায় রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, গবেষণাগারের আধুনিকীকরণ, লাইব্রেরি সুবিধার উন্নয়ন এবং সময়মতো ফেলোশিপের অর্থ প্রদানেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাসের সাফাই, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের খরচ এখনও অনেক কম। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। ভিনরাজ্য বা ভিনদেশে গবেষণাপত্র পাঠানোসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নেট ও জেআরএফ প্রাপ্ত গবেষকদের আর্থিক সাহায্য থাকায় বিশেষ সমস্যা হবে না বলে দাবি করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সংকটময় পরিস্থিতিতে মেধাবী ও প্রকৃত অর্থেই পিছিয়ে থাকা গবেষকদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় অতীতেও দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।