বারুইপুরে রাজনৈতিক রক্তগঙ্গা! পুজো কমিটি গড়ার বিবাদের জেরে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানা এলাকার ট্যাঙ্গারবেরিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হওয়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও উত্তেজনার জেরে এক বিজেপি কর্মীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম বাপি প্রামাণিক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে সরাসরি শাসকশিবিরের দিকে খুনের আঙুল তোলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি ট্যাঙ্গারবেরিয়া এলাকায় আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি নতুন পুজো কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছিল। আর এই কমিটি গঠনকে ঘিন ঘিন করা মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক কোন্দল তুঙ্গে উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, গত রবিবার পরিকল্পিতভাবে বাপি প্রামাণিককে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কিছু কর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। এই বর্বরোচিত হামলায় বাপি প্রামাণিক গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার পর তাঁকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই ট্যাঙ্গারবেরিয়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য গোটা এলাকায় কঠোর পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।

মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পুজো কমিটির দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে এবং অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই খুনের সঙ্গে দলের যোগস্ফীতি অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা উদঘাটনে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে।