সিঙ্গল মাদার থেকে একেবারে ফাইটার যোদ্ধা! জি বাংলার পর্দায় শুরু হচ্ছে নতুন ঝড়

বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে দর্শকদের বিনোদনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে জি বাংলার পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এক নতুন ও চমকপ্রদ মেগা ধারাবাহিক—‘বাঘিনী’। সুন্দরবনের অত্যন্ত মনোরম অথচ রুক্ষ প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এই সিরিয়ালের আদ্যোপান্ত রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্য। সুন্দরবনের মাতলা নদীর জলরাশি, জঙ্গল ঘেরা কাদামাটি এবং সেখানকার স্থানীয় মানুষজনের জীবন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই সম্পূর্ণ গল্পটি। ধারাবাহিকের মূল প্লট সাজানো হয়েছে ভূমি নামের এক সাহসী মধু আহরণকারী তরুণীকে ঘিরে, যে একদিকে যেমন একজন দায়িত্বশীল একলা মা বা ‘সিঙ্গল মাদার’, তেমনই অন্যদিকে সে তার ছোট্ট মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে গোটা সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

গল্পের মোড় ঘোরে তখনই, যখন এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ভূমি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিশ্বাসঘাতকতা এবং স্মৃতিভ্রংশ এই দুই প্রেমিক-যুগলকে চিরতরে আলাদা করে দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই সুন্দরবনের স্থানীয় দেবী বনবিবির আশীর্বাদ এবং অলৌকিক শক্তির জোরে সাধারণ এক গ্রামের মেয়ে ভূমি রূপান্তরিত হয় এক দুর্ধর্ষ নারী যোদ্ধায়। নিজের আদরের সন্তানকে রক্ষা করা, হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং একটি অপরাধমূলক সাম্রাজ্যের মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যেই শুরু হয় ভূমির এক অদম্য পথচলা। অসাধারণ অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং আবেগময় সম্পর্কের বুনোটে তৈরি এই নতুন ধারাবাহিক ইতিমধ্যে দর্শকের মনে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

এই মেগা ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় ছোটপর্দায় অভিষেক ঘটতে চলেছে নবাগতা সম্পিতা প্রামাণিকের। পেশায় সুপরিচিত এই নৃত্যশিল্পী আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে বর্ধমান থেকে একরাশ স্বপ্ন বুক বেঁধে তিলোত্তমা কলকাতায় পা রেখেছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর আজ তাঁর নাচের স্টুডেন্টে সংখ্যা প্রায় ছশো ছাড়িয়েছে। নিজের চরিত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তব মিল খুঁজে পেয়ে সম্পিতা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর মতে, একজন সিঙ্গল মাদারকে সমাজে পদে পদে যে সমস্ত কঠিন প্রশ্ন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, ভূমির চরিত্রের মধ্যেও ঠিক সেই লড়াইয়ের নিখুঁত রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অন্যন সাধারণ এই প্রজেক্টের পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে সামলেছেন খ্যাতনামা পরিচালক রাজা চন্দ। সুন্দরবনের প্রতিকূল কাদা ও বৃষ্টির মাঝে এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে পরিচালক নিজেই শুটিং ফ্লোরে চোট পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও মাতলা নদীর উত্তাল জলরাশি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ক্যামেরাবন্দি করতে পুরো টিম যে পরিশ্রম করেছে, তা পর্দায় এক অন্য মাত্রা যোগ করবে। সবমিলিয়ে, সুন্দরবনের রূঢ় বাস্তব এবং মানুষের অদম্য লড়াইকে সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলতে কতটা সফল হয় ‘বাঘিনী’, তার উত্তর মিলবে এই ধারাবাহিক সম্প্রচারের পর থেকেই।