“ঘরের মধ্যে পচেগলিত চার দেহ!”-বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারের ৪ জনকে খুন

ফের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চরম নৃশংসতার শিকার একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। বাংলাদেশর রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে ঘরে ঢুকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে ওই পরিবারের চার সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহতরা হলেন—৬৫ বছর বয়সি গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ৫০ বছর বয়সি প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৮ বছরের কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং ১৪ বছরের পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী। গণপতি বাবু রংপুর জেলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং গত বছরের ডিসেম্বরেই তিনি অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরিবারটি সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি নতুন তিনতলা বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করলেও স্থানীয়দের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না।

পুলিশ ও সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে ওই পরিবারের চারজনের সঙ্গেই আর কারও যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। শনিবার বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর প্রধান দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। সিআইডি আধিকারিক সুবীর চক্রবর্তীর প্রাথমিক অনুমান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে যে কোনো সময়ে গলায় গামছা বা দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে চারজনকে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কারণ, ঘরের ভিতরে আলমারি এবং ড্রয়ার খোলা অবস্থায় এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। নিহতের স্বজনদের দাবি, গণপতি বাবুর কোনো শত্রু ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষবার কথা হওয়ার পর থেকেই সকলের ফোন বন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ হয়। এরপর রাতে বাড়িতে এসে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান তাঁরা।

বর্তমানে পুলিশ মরদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। পুরো ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত অপরাধী কারা এবং ঠিক কী কারণে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডি।