নদীতে নামলেই মৃত্যুফাঁদ! স্কুল থেকে ফেরার পথে জলের তোড়ে ভেসে গেল তিন পড়ুয়া, মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ এলাকা

ছত্তীসগঢ়ের তখতপুর থানার অন্তর্গত সামদিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে ওঠা ঘোংঘা নদীর জলে ডুবে তিন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুদের মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকে বিহ্বল তাদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নদী ও খাল পারাপার করার সময় চরম সতর্কতা অবলম্বনের আর্জি জানানো হলেও সচেতনতার অভাবে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ওই তিন শিশু স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। স্কুল যাওয়ার সময় তারা অন্য একটি নির্ধারিত পথ ব্যবহার করলেও সেদিন স্কুলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ, দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর শর্টকাট উপায় হিসেবে তারা ঘোংঘা নদী সাঁতরে পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সময় নদীর জলের স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল এবং স্রোতও ছিল অত্যন্ত প্রখর। স্কুল থেকে ফেরার পথে একই রকমভাবে নদী সাঁতরে পারাপার করার সময় নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে তারা আর পেরে ওঠেনি এবং চোখের নিমিষে জলের তোড়ে ভেসে যায়।
সকালে যখন শিশুরা স্কুলে গিয়েছিল, তখন ঘোংঘা নদীর জলের স্তর বেশ কম ছিল। কিন্তু লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর যে এত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, তা ওই শিশুরা বুঝতে পারেনি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃত শিশুরা হলো অনমোল জয়সওয়াল (৭), স্তুতি জয়সওয়াল (৯) এবং শিক্ষা জয়সওয়াল (৮)। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে শত শত গ্রামবাসী ভিড় জমান। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগেই নদীতে শিশুদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের এসডিআরএফ (SDRF)-এর বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। তদন্তকারী আধিকারিক অবনীশ পাসওয়ান জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ লাগাতার তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে নদী থেকে ওই তিন শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ধরনের মর্মান্তিক জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিককালে ওই অঞ্চলে নতুন নয়। গত ২১ আগস্ট বিলাসপুরের পাঁচপেড়ি থানা এলাকার চিলহাটি গ্রামেও একইভাবে দুই শিশুর জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২৫ জুলাই দুর্গের শিবনাথ নদীতে স্নান করতে নেমে দুই শিশুর সলিলসমাধি ঘটে। বস্তার এবং বেমেতারা অঞ্চলেও সাম্প্রতিক অতীতে পুকুর কিংবা পাথরের খাদে জল জমে এ ধরনের একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। লাগাতার বর্ষার মরশুমে নদী, নালা বা খালের জলস্তর আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে নদী বা খাল পার হয়ে জীবন বিপন্ন না করার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন।