প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ! পারস্পরিক স্বার্থ আর সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কী বার্তা দিলেন এস জয়শঙ্কর?

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান সমীকরণ নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সম্প্রতি একটি বিশিষ্ট বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন সংবেদনশীল দিকগুলি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তাঁর এই মন্তব্য বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক স্বার্থ এবং সুনির্দিষ্ট বোঝাপড়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। নয়াদিল্লি কখনোই অন্ধভাবে এই প্রত্যাশা করে না যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি সর্বদা ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। বরঞ্চ, দুই দেশের স্বার্থের অভিন্ন ক্ষেত্র বা কমন গ্রাউন্ড যেখানে মিলে যায়, তখনই সত্যিকারের কার্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন টানাপোড়েন এবং বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং আসন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, যেকোনো সফল সম্পর্কে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হওয়া সমানভাবে জরুরি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদকেই প্রধান ও একমাত্র অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করে ভারতের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি কিংবা হামলা চালানোর মতো নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভারতের জনমত এবং জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এই বিষয়ে কোনো আপস করা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রতিবেশী তিন দেশের সাম্প্রতিক কৌশলগত ও সামরিক চুক্তিগুলির প্রতিও যে নয়াদিল্লির তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে, সেকথাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পড়শি রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বলতে গিয়ে এস জয়শঙ্কর পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সীমান্ত এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকাই দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের প্রধান শর্ত। ২০২০ সালের পর থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর ঘটে যাওয়া নানা কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক সম্পর্ক এগোতে পারে না। বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও চিন উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং দুই দেশেরই স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।