ওড়িশা উপকূলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল ১৭০০ টন আকরিক লোহা বোঝাই বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২ নাবিক

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ভয়াবহ বিপর্যয়! ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে ডুবে গেছে পানামার পতাকাবাহী একটি বিশাল পণ্যবাহী জাহাজ। ‘এমভি ওশান-উইনার’ (MV Ocean-Winner) নামের ওই লাইনারটি প্রায় ১,৭০০ টন আকরিক লোহা বোঝাই করে ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। এই আকস্মিক সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোং লিমিটেড’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ পারাদ্বীপ বন্দর ছেড়েছিল জাহাজটি। এরপর গত ২২ আগস্ট সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে শ্রী বিজয় পুরমের ‘মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র)-এর কাছে জাহাজটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জরুরি বার্তা আসে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি আঁচ করে উদ্ধারকাজে সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত তৎপরতা শুরু করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় নৌবাহিনী। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার জন্য কোস্ট গার্ডের উন্নত জাহাজ ‘বরাদ’ (Varad) এবং ‘আনমোল’ (Anmol)-কে অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি, অভিযানের পরিধি বাড়াতে শ্রী বিজয় পুরম থেকে ‘বিজিত’ (Vijit) নামের তৃতীয় একটি শক্তিশালী জাহাজও মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই একটি লাইফ র‍্যাফট বা জীবন রক্ষাকারী ভেলা থেকে দুজনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বাকি ২২ জন নাবিকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই জলপথে যাতায়াতকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের জীবিত উদ্ধারের আশabi নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অতিরিক্ত ওজন, বৈরী আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি এর পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।