ভোটের ময়দানে নতুন সমীকরণ! আইএসএফ ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িতে বোমা হামলা, উত্তপ্ত ভাঙড়

ভাঙড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। সদ্য আইএসএফ ত্যাগ করা হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা পরপর দুটি বোমা ও ইট ছোটে বলে অভিযোগ। এই আকস্মিক হামলায় গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এই ঘটনার পরই গোটা এলাকায় চরম রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার উড়িয়াপাড়া এলাকা দিয়ে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। বিকট শব্দে বোমা ফাটানোর পাশাপাশি চলে ইটবৃষ্টি। ইটের আঘাতে গাড়িটির কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। সঙ্গে থাকা অন্যান্য বাইক আরোহীরাও বোমার আওয়াজ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই হামলার পেছনে সরাসরি আইএসএফের হাত রয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন খোদ আরাবুল ইসলাম। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তিনি আইএসএফ ছেড়েছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে লড়াই করলেও তিনি পরাজিত হন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও সমীকরণের বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। অবশেষে আইএসএফ ত্যাগের মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন তিনি।
এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাঙড়। গভীর রাতে শাকসর এলাকায় আইএসএফের একটি দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট হদিস মেলেনি। তবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আইএসএফ কর্মী ও সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে ও রাস্তা অবরোধ করে চলা এই বিক্ষোভের জেরে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ একই দিনে শাকসর এলাকায় বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনের কর্মসূচিও রয়েছে। একই দিনে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পুড়ে যাওয়া এবং অন্য দলের উদ্বোধনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভাঙড় থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কারা এই নাশকতার পেছনে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল প্রকাশের পর ভাঙড়ের এই অশান্ত পরিস্থিতি এলাকাকে ফের এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।