‘ভেরিফিকেশন হয়েছে, ওয়েবসাইটে অ্যাপ্রুভড, তবু মেলেনি টাকা!’ অন্নপূর্ণার অনুদান ঘিরে চরম উত্তেজনা উত্তর ২৪ পরগনায়

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর-কল্যাণগড় পৌরসভা চত্বরে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগে এক তীব্র চাঞ্চল্যকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের একাংশের বিক্ষোভের জেরে পৌরসভা চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে ঘটনাস্থলে আটকে পড়েন স্থানীয় বিধায়ক সুমন হীরা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অশোকনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিক্ষোভকারী উপভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে বাড়িতে সমস্ত রকম ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরেও এবং সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাপ্রুভড’ বা অনুমোদিত দেখানোর পরেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুত অর্থ ঢোকেনি। শুধু তাই নয়, পূর্বে সমস্ত প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকার পর হঠাৎ করেই অনেকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নতুন তথ্য দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে তাঁদের নামে নাকি তিনটি করে বাড়ি রয়েছে। এই ধরনের পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের জেরে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা অশোকনগর এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকাভুক্ত উপভোক্তা রয়েছেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার মধ্যে এখনও বহু দরিদ্র মহিলা ও অসহায় পরিবার সরকারি অনুদানের একটি টাকাও হাতে পাননি বলে অভিযোগ। বারবার পৌরসভায় যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর না মেলায় তাঁদের ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত তীব্র বিস্ফোরণের রূপ নেয়। টাকা না পাওয়ার এই যন্ত্রণায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং পৌরভবনের ভেতরে ও বাইরে প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক সুমন হীরা। তবে বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ মানুষের রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। প্রশাসনের তরফ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পৌরভবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্থানীয় থানাসূত্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় চরম থমথমে ভাব বিরাজ করছে। উপভোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে বকেয়া টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে না পাঠালে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।