ঋতু পরিবর্তনেই হু হু করে বাড়ছে H1N1 সংক্রমণ! সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে ভুল করলেই বড় বিপদের হাতছানি

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের রাজধানী দিল্লি এবং এনসিআর (Delhi NCR) অঞ্চলে ফের নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মারণ সোয়াইন ফ্লু (H1N1)। আবহাওয়ার খামখেয়ালী মেজাজ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং তাপমাত্রার আকস্মিক ওঠানামার জেরে হু হু করে বাড়ছে H1N1 ভাইরাসের সংক্রমণ (Swine Flu outbreak Delhi)। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি দিল্লির একাধিক সরকারি হাসপাতালের প্রথম সারির চিকিৎসক এবং এক শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিকও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলতেই চিকিৎসকমহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ সাধারণত সাধারণ ভাইব্রেয়েন্ট ফ্লুর মতোই অত্যন্ত মৃদুভাবে শুরু হয়। হঠাত্ করে উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর, শুকনো কাশি, তীব্র গলা ব্যথা, মাথা ধরা, ঠান্ডা লাগা, সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা এর প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু বর্তমান মিউট্যান্ট স্ট্রেনে কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ সরাসরি ফুসফুসে মারাত্মক আক্রমণ চালাচ্ছে। বিশেষ করে শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হওয়া কিংবা পাল্স অক্সিমিটারে অক্সিজেন লেভেল আচমকা ড্রপ করার মতো ঘটনাগুলি চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। শরীরে তীব্র জ্বর দীর্ঘক্ষণ না কমা, বুকে অসহ্য ব্যথা, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া এবং ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, H1N1 সংক্রমণ যে কারও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তবে বয়স্ক মানুষ, খুব ছোট শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। একইসঙ্গে যাঁদের শরীরে আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের জটিল সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষভাবে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ইনফ্লুয়েঞ্জা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
ভাইরাসজনিত এই রোগের চিকিৎসায় সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। চিকিৎসকের নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ মেনে প্রয়োজন সাপেক্ষে ‘ওসেলটামিভির’-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সংক্রমণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে এই চিকিৎসা শুরু করতে পারলে দ্রুত সুফল মেলে। তবে কোনো অবস্থাতেই নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া উচিত নয়। সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে বারবার সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া, হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামান্য জ্বর বা সর্দি-কাশিকে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা না করে শরীরের প্রতিটি লক্ষণের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।