টানা পতন কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দালাল স্ট্রিট! সেনসেক্সের দুর্দান্ত ৫০০০ পয়েন্ট না কি চমক? কোন ৫ জাদুকরী কারণে চাঙ্গা হল বাজার?

টানা বেশ কয়েকটি সেশনের শ্লথগতি ও তীব্র পতনের ধাক্কা সামলে অবশেষে সপ্তাহের শেষভাগে এসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক শক্তিশালী ও স্বস্তিদায়ক প্রত্যাবর্তন দেখা গেল। বিগত সাতটি ট্রেডিং সেশনে যেখানে নিফটি ক্রমাগত তলিয়ে যাচ্ছিল এবং সেনসেক্সও টানা চার দিন ধরে পতনের কবলে পড়েছিল, সেখানে সপ্তাহের এই টার্নিং পয়েন্টে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বাজার এক ঝটকায় অনেকটা ওপরে উঠে এল। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্ট শক্তিশালী হয়ে লাফিয়ে উঠে ৭৪,৪৬৮ অঙ্কে গিয়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০ সূচকও ১০০ পয়েন্টেরও বেশি মজবুত হয়ে ২৪,২০০-র মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি পেরিয়ে সবুজ জোনে লেনদেন শেষ করেছে। বাজারের এই আচমকা ঘুরে দাঁড়ানো আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে।

শুধু বড় মাপের শেয়ারই নয়, এদিন বাজারজুড়ে এক সর্বাত্মক বুল রান লক্ষ্য করা গেছে। মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ সেগমেন্টের শেয়ারগুলোতেও দুর্দান্ত কেনার হিড়িক দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০—উভয় সূচকই প্রায় অর্ধ শতাংশের বেশি মুনাফা নিয়ে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, সেনসেক্সের ৩০টি হেভিওয়েট স্টকের প্রতিটিই পজিটিভ জোনে বা সবুজ সঙ্কেতে লেনদেন শেষ করেছে। ইনফোসিস, ইন্ডিগো, টিসিএস, বাজাজ ফাইন্যান্স এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো প্রথম সারির টেক ও কর্পোরেট জায়েন্টগুলোর শেয়ারের দাম এক থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও পাওয়ার গ্রিড, বিইএল, এসবিআই, ভারতী এয়ারটেল, আইটিসি, এইচডিএফসি ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এইচসিএল টেকের মতো মার্কেট লিডারদের শেয়ার দরও গড়ে প্রায় এক শতাংশ করে ওপরে উঠেছে।

বাজারের এই হঠাৎ ও বিস্ফোরক ঊর্ধ্বগতির পিছনে বিশেষজ্ঞরা মূলত পাঁচটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের ইল্ড বা প্রতিদান হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগের পরিবেশ কিছুটা শিথিল হয়েছে। ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বাড়ার কারণে ১০-বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের ইল্ড নেমে এসেছে ৪.৬৩৭ শতাংশে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের কিছুটা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারতীয় রুপিও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ডলারের বিপরীতে ১৭ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৫.৫৬ স্তরে পৌঁছেছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারের ওপরে থাকায় রুপির এই তেজ কিছুটা সীমিত হয়েছে, তবুও সার্বিক সেন্টিমেন্ট ইতিবাচক ছিল।

তৃতীয়ত, একটানা সাত দিন বাজার পড়ার কারণে শর্ট-পজিশন ধরে রাখা ট্রেডারদের মধ্যে একপ্রকার হড়পা বান বা শর্ট-কভারিং দেখা যায়। গত ১১ মাসের মধ্যে এটিই ছিল দীর্ঘতম ধারাবাহিক পতন, ফলে মুনাফা তুলতে বা লোকসান কমাতে ট্রেডাররা নতুন করে শেয়ার কিনতে বাধ্য হন। চতুর্থত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা এফআইআই-দের (FIIs) তরফ থেকেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এসেছে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগের সেশনগুলোতে যথাক্রমে ২৫৭৩ কোটি এবং ৪০৮ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারকে সাপোর্ট জুগিয়েছেন। পঞ্চমত, এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়া এবং জাপানের নিক্কি ও হংকংয়ের হ্যাং সেংয়ের উত্থানও ভারতীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করেছে। তবে ২৪,৩০০-এর স্তরটি নিফটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।