“২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত! স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণে ভারতের অভাবনীয় সাফল্যের জয়গান”

স্বাধীনতার ৮০তম বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে এক অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তাঁর এই ভাষণটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহ্যের ধারা মেনে এবার প্রথমবার রাষ্ট্রপতির সরকারি অনুষ্ঠানে বাজল ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীত। দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে থাকা সমস্ত ভারতীয়দেরও স্বাধীনতা দিবসের আগাম শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ভারতের অগ্রগতির রূপরেখা: ভাষণের শুরুতেই ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিকরাই আজকের ভারতের ভবিষ্যতের নির্মাতা। দেশ গঠনে ছাত্রছাত্রী, বিজ্ঞানী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে কুর্নিশ জানান তিনি। ১৪ অগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ হিসেবেও স্মরণ করে দেশভাগের সময় প্রাণ হারানো লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে যে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি উঠে এল:
দারিদ্র্য বিমোচন: রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের হাত ধরে দেশের ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। প্রায় ৮০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ কোটি মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল বিপ্লব: ভারতের অর্থনীতির শক্তিবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বিপ্লবের জয়গান গেয়ে মুর্মু বলেন, বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি এখন ভারতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামের দোকান থেকে শহরের বড় শপিং মল—সর্বত্রই ডিজিটাল লেনদেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা।
নারী ও যুবশক্তি: ২০২৩ সালের নারী শক্তি বন্দন আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি নারী প্রতিনিধিত্বের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ায় যুবশক্তির দক্ষতা, স্টার্টআপ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
পরীক্ষা ও স্বচ্ছতা: সরকারি চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অসদুপায় পুরোপুরি বন্ধ করতে যে একাধিক সংস্কার আনা হয়েছে, তা নিয়েও আলোকপাত করেন রাষ্ট্রপতি।
ভাষণের শেষে রাষ্ট্রপতি শান্তি, সহযোগিতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শকে বিদেশনীতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশ এখন এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে।