“সাভারকর মন্তব্য মামলায় বিরাট স্বস্তি! সুপ্রিম কোর্টে আইনি ঝটকা এড়িয়ে বড় জয় রাহুল গান্ধীর”

বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে যে বাধ্যতামূলক আইনি অনুমোদন বা স্যাংশন (Sanction) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি। আর সেই কারণেই নিম্ন আদালতের সমন নির্দেশ বাতিল করেছে আদালত।
পুরো মামলার পটভূমি: ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের বহুল আলোচিত ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ চলাকালীন একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, বীর সাভারকর ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত পেনশন নিতেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর জেরে আইনজীবী নৃপেন্দ্র পান্ডের দায়ের করা একটি ব্যক্তিগত ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩এ (ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি) এবং ৫০৫ (জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও মানহানির এই অভিযোগের বিরুদ্ধে এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সমনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
কেন মামলা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট? এদিন মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, এই মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো আইনি অনুমোদন বা স্যাংশন নেওয়া হয়নি। আদালতের তরফে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ সরকারের জমা দেওয়া নথিতে আইনি অনুমোদনের কোনো উল্লেখ নেই। এই আইনি ত্রুটির কারণেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারি করা সমন এবং সম্পূর্ণ ফৌজদারি অভিযোগটি খারিজ করা হচ্ছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ে কংগ্রেস নেতার আইনি জটিলতা অনেকটাই কমল।