“১৯৪৭-এ মোদিজি প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশভাগের এই ক্ষতি হত না! বিস্ফোরক দাবি যোগী আদিত্যনাথের”

১৯৪৭ সালের ভয়াবহ দেশভাগ এবং তার পরবর্তী হিংসার ঘটনার জন্য সরাসরি কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার লখনউতে দেশভাগের বিভীষিকাময় স্মৃতিচারণমূলক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার সেই সময়টিতে নরেন্দ্র মোদির মতো দূরদর্শী নেতা প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারতকে এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার লালসায় কংগ্রেস নেতৃত্ব অতীতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার জন্য গোটা দেশকে চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় সর্দার প্যাটেল যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন, তবে ভারতকে কেউ খণ্ডিত করার সাহস পেত না। কংগ্রেস নেতাদের রাজনৈতিক কাপুরুষতার জন্যই দেশবাসীকে সেই বিভীষিকার মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেও বিরোধী দলকে একহাত নেন এই বিজেপি নেতা।
দেশভাগের রূপরেখা ও ভৌগোলিক বন্টন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানকে এমন ভূখণ্ড উপহার স্বরূপ দেওয়া হয়েছিল যার জন্য তারা কখনোই কোনো দাবি জানায়নি। তাঁর দাবি, সিন্ধুপ্রদেশ—যা মূলত হিন্দু ও সিন্ধি-প্রধান এলাকা ছিল—তা জোর করে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পাঞ্জাবি-প্রধান অঞ্চলও হস্তান্তর করা হয়।
বাংলার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বাংলা ছিল পুরোপুরি বাঙালি-প্রধান। কিন্তু হিন্দুদের একাধিক গ্রাম জোরপূর্বক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার প্রতি অতি-উন্মুখ হয়ে কংগ্রেস এই লজ্জাজনক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তোপ দাগেন তিনি। দেশের মানুষ যে দলের ওপর অগাধ আস্থা রেখেছিল, সেই কংগ্রেস বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বলেই দাবি করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।