ডিএমকে-র চা চক্রে যোগদান নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চরম জল্পনা! কী এমন বার্তা দিলেন কনিমোঝি?

কেন্দ্রীয় সরকারের আসন্ন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিসীমন বিল বা ডিলিমিটেশন বিলের ক্ষেত্রে ডিএমকে (DMK) শেষ পর্যন্ত কি তবে কেন্দ্রকে সমর্থন জানাতে চলেছে? এই জল্পনা এখন তুঙ্গে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংসদীয় অধিবেশনের শেষ দিনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ চা-চক্রের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ডিএমকে-র প্রভাবশালী লোকসভা সাংসদ কনিমোঝি করুণানিধি। উল্লেখ্য, এই চা-বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ বিজেপি ও এনডিএ শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গোটা ইন্ডিয়া জোট এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির বয়কটের মুখে দাঁড়িয়ে একমাত্র বিরোধী সাংসদ হিসেবে কনিমোঝির এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিশেষ করে, দক্ষিণী রাজ্যে কংগ্রেস এবং অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কঝগম’ (TVK)-এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট নিয়ে কংগ্রেসের পদক্ষেপ ডিএমকে শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। যার জেরে এই বিতর্কিত বিল এবং জাতীয় স্তরের জোট রাজনীতি নিয়ে ডিএমকে-র অবস্থান কিছুটা নরম হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে যখন পরিসীমন বিলের প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তখন ডিএমকে এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির এই ভোলবদল নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জনও তীব্রতর হচ্ছে যে, ডিএমকে কি তবে ভবিষ্যতে এনডিএ জোটে ভিড়তে পারে? সম্প্রতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়ে ডিএমকে-র জাতীয় মুখপাত্র কনিমোঝি সোমু প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, রাজনীতিতে চিরকালের জন্য কেউ শত্রু বা বন্ধু হয় না। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরিসীমন প্রক্রিয়ার পর লোকসভায় তামিলনাড়ুর ন্যায্য আসন সংখ্যা এবং অধিকার আদায়ের জন্য তাঁদের দল সবসময় লড়াই চালিয়ে যাবে। বিরোধী শিবিরকে অন্ধকারে রেখে ডিএমকে নেত্রীর এই কৌশলগত পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।