মেসির কেরল সফর ঘিরে চরম গোপনীয়তা! সরকারের হাতে জমা পড়ল বহুচর্চিত তদন্ত রিপোর্ট

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তাবিত কেরালা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ বিতর্কের জট কি এবার কাটতে চলেছে? অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত সেই তদন্ত রিপোর্ট এসে পৌঁছল সরাসরি রাজ্য সরকারের হাতে। সোমবার সরকারিভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জনীশ। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় নথি হিসেবে এই রিপোর্ট জমা পড়ার কারণে এর ভেতরের বিস্ফোরক বিষয়বস্তু বা তথ্য নিয়ে এই মুহূর্তে মুখ খুলতে বা কোনো মন্তব্য করতে সম্পূর্ণ নারাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, কেরালা সরকারের ক্রীড়া দফতরের বিশেষ সচিব অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালনা করেছেন। প্রস্তাবিত ফুটবল সফর সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি নথি, গোপন ফাইল এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পরই তিনি এই চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। এখন রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহল এই রিপোর্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঠিক করবে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “তদন্ত রিপোর্টটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি। রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সঠিক সময়ে তা সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের কেরালা সফর নিয়ে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ক্রীড়াপ্রেমী মহলে নানান প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কেরলের বিগত বাম সরকারের আমলেই মেসিদের রাজ্যে এনে একটি হাই-ভোল্টেজ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা খোলাখুলি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাবিত সফর বাস্তবে রূপ না নেওয়ায় রাজ্যের হতাশ ফুটবলপ্রেমী ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে নানাবিধ জল্পনার সৃষ্টি হয়। জনরোষ ও বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
এই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জনীশ আরও জানান, “এ দেশের অগণিত ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকরাও এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পরই আমাদের মনে হয়েছিল যে, এই বিষয়ে একটি আরও বিস্তারিত ও গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।” এই বিশেষ তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল, আন্তর্জাতিক মানের কোনো ফুটবল দল বা তারকা খেলোয়াড়দের ভারতে বা রাজ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সমস্ত প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও সরকারি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, এই বিষয়টি কেবল নিছক কোনো সাধারণ ক্রীড়া দফতরের একক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নয়। সেই কারণেই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে এখন আরও গভীরে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, এই তদন্তে মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, এই সফর সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার আদৌ কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ার আর্থিক লেনদেন ও বাজেট সংক্রান্ত দিকগুলি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। তবে সরকারিভাবে তদন্ত রিপোর্টে থাকা তথ্য বা সংবাদমাধ্যমের এই সমস্ত দাবির সত্যতা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করেননি ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি এই বিষয়ের আর্থিক লেনদেন ও নানা অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ খুলতে অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে রাজ্যে আনার এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরাহিমানের কার্যকালে। তাঁর আমলেই ঘটা করে মেসিদের কেরালা সফরের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার তদন্ত রিপোর্ট এখন বর্তমান সরকারের টেবিলে। আগামী দিনে এই গোপনীয় রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কেরালা সরকার ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত ও ক্রীড়ামহল।