“১৭,০০০ এর বেশি শূন্যপদ”-সরকারি চাকরির বড় ঘোষণা নিয়ে এল বিরাট আপডেট

রাজ্যজুড়ে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় বদলের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এতদিন মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন (Municipal Service Commission) এবং কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশন (Co-operative Service Commission)-এর মাধ্যমে যে নিয়োগগুলি পরিচালিত হতো, তা এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা PSC-র মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই বড় সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।

নিয়োগে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত ও শূন্যপদের পরিসংখ্যান:

রাজ্য সরকারের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, গ্রুপ-এ, গ্রুপ-বি এবং গ্রুপ-সি মিলিয়ে মোট ১৭ হাজারের বেশি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে চলেছে।

  • গ্রুপ-এ পদ: বিভিন্ন দপ্তরে জুডিশিয়াল অফিসার, WBCS এগজ়িকিউটিভ, পুলিশ, অডিট ও অ্যাকাউন্ট সার্ভিস, লিগ্যাল সার্ভিস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সহ মোট ২,৪৯০টি শূন্যপদ রয়েছে।

  • গ্রুপ-বি পদ: এই ক্যাটাগরিতে মোট ২,২৮৪টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • গ্রুপ-সি পদ: এই স্তরে সবমিলিয়ে ১২,৩৭৬টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

  • আসছে নতুন বিজ্ঞপ্তি: খুব শীঘ্রই প্রায় ৮,০০৬টি শূন্যপদের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে পিএসসি। এই পরীক্ষাবলীতে প্রার্থীরা রাজ্য সরকার ঘোষিত বর্ধিত বয়সের ছাড়ের সুবিধাও পাবেন।

ওবিসি তালিকা ও পরীক্ষা পেছানো নিয়ে স্পষ্ট বার্তা:

বর্তমান পরিস্থিতিতে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশ নিয়ে জল্পনা চললেও সরকারের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই তালিকার প্রকাশের সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার দিনগুলির কোনও সম্পর্ক নেই। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারেই সমস্ত পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সংরক্ষিত ওবিসি শ্রেণির পদে কোনও পরিবর্তন এলে তা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত করা হবে।

স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার:

পিএসসি-র কার্যপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নিরাপদ উপায়ে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের সঠিক সুপারিশ করতে বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।