২ বছর পর ফের খুলছে আরজি কর মামলার ফাইল! নতুন করে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

২০২৪ সালের নৃশংস আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নারী প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ফের শিরোনামে এল। রবিবার (৯ আগস্ট) পানিহাটিতে এক শোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মামলার নতুন করে তদন্তের বড় ঘোষণা করেছেন।

⚖️ এক নজরে মূল ৫টি বিষয়:

  • নতুন করে তদন্ত: দীর্ঘ দুই বছর পর আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুনরায় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: রবিবার এক জনসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

  • মায়ের আবেদন: নিহত চিকিৎসকের মা (যিনি বর্তমানে একজন বিজেপি বিধায়ক) মামলার পুনর্তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন।

  • অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় গাফিলতি: শুধু ধর্ষণ-খুনই নয়, বরং নিহতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কথিত অবহেলা এবং তাড়াহুড়ো নিয়েও পৃথক তদন্ত হবে।

  • আগের রায়: এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে এর আগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ঠিক কী কারণে হচ্ছে নতুন তদন্ত?

পানিহাটিতে নির্যাতিতার স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ নতুন করে তদন্তের আর্জি জানিয়ে তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এরপর মুখ্য সচিব এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি উচ্চপর্যায়ের দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরই ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের অধীনে নতুন করে তদন্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সঠিক কর্তব্য পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি নিহত চিকিৎসকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, নটগড় কদমতলা শ্মশানে দাহ করার জন্য ভুক্তভোগীর মরদেহ প্রথমে তালিকায় পেছনের দিকে থাকলেও হঠাৎ করেই সেটিকে সামনে এনে তড়িঘড়ি দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়। পরিবার নির্ধারিত ফি না দিলেও এবং কোনো নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর না নিয়েই এই কাজ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জির মতো ব্যক্তিরা ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেহেতু মূল মামলাটি সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের আওতাধীন, তাই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত অনিয়ম ও চক্রান্তের এই দিকটি রাজ্য পুলিশ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখবে।