‘নমস্তে’ বলে শুরুতেই মন জয় করলেন আন্সেলোত্তি! কলকাতার যুবভারতীতে নামার আগে আর কী বললেন ব্রাজিলের কোচ?

ফুটবলের মক্কায় পা রেখেই আতিথেয়তায় মুগ্ধ ব্রাজিল শিবির। কয়েকমাস আগে হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের স্কোয়াডের ১৬ জন ফুটবলারকে সঙ্গে নিয়ে এবং ৯ জন নতুন মুখকে সুযোগ দিয়ে ভারতে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শনিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে থেকেই শহরজুড়ে এখন চরমে ফুটবল জ্বর। প্রথমবার ভারতের মাটিতে খেলতে নামার আগে সাংবাদিক বৈঠকে এসেই ‘নমস্তে’ বলে ভারতীয় অনুরাগীদের মন জয় করে নিলেন বর্ষীয়ান কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি।

ভারতের উন্মাদনা ও হোমওয়ার্ক নিয়ে কী বললেন কোচ?

বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে ব্রাজিল এবং ভারতের ফুটবল শক্তির কোনো তুলনা চলে না, তা সত্ত্বেও ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে সফল কোচ। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পানামা ম্যাচের ভিডিও ভালো করে দেখে খালিদের দলের পুরো কাটাছেঁড়া সেরে ফেলেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের ফুটবলার রায়ান উইলিয়ানসকে নিয়ে প্রশংসাও করেছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। যুবভারতীর মাঠের গুণগত মান নিয়ে শুরুতে সামান্য সংশয় থাকলেও, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তৈরি হওয়া মখমলের মতো মাঠ দেখে সন্তুষ্ট দল।

অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চায় সেলেসাওরা

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস জানিয়েছেন, সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়া। জাতীয় দলের হয়ে অনেক ম্যাচ খেললেও ভারতে এটাই তাঁর প্রথম সফর। এখানকার মানুষের ভালোবাসা এবং উন্মাদনা তাঁকে এবং দলের নতুন মুখগুলোকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

অন্যদিকে, ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ না-জেতার আক্ষেপ ঘোচানোর প্রসঙ্গে আন্সেলোত্তি এক নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কেবল ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর ভর করে এখন আর বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়। আধুনিক ফুটবলে দলগত সংহতি এবং নিখুঁত সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। ফলে যুবভারতীর এই প্রীতি ম্যাচটিকে কোনো সাধারণ পরীক্ষা না ভেবে, তরুণ ফুটবলারদের নিজেদের প্রমাণ করার একটা বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছে সেলেসাও শিবির। কলকাতার বুকে সাম্বা জাদুকরদের পা রাখার পর এখন কেবল শনিবারের মেগা শো-ডাউনের অপেক্ষায় বলয়প্রেমীরা।