ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসনে কয়লা মাফিয় মেগা ডেরা! ১৫টি অস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড গুলিসহ পুলিশের জালে শামসের হোসেন

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) জালে ধরা পড়ল কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া শামসের হোসেন এবং তার সহযোগী শেখ খাইরুল। গভীর রাতে কলকাতা ও ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করার পর দুর্গাপুরের বহুলা এলাকায় নিয়ে আসে এসটিএফ। এরপর ইসিএলের (ECL) একটি পরিত্যক্ত আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্রভাণ্ডার। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কয়লা ও অস্ত্র চোরাচালান চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

যেভাবে জালে দুই অভিযুক্ত

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় বেআইনি অস্ত্র লেনদেনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে বীরভূমের খয়রাশোল এলাকার বাসিন্দা তথা অণ্ডালের বাসিন্দা শেখ খাইরুল। তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে টানা জেরা করতেই বেরিয়ে আসে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া শামসের হোসেনের নাম।

এরপর বেশ কিছুদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা শামসের হোসেনকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে পাকড়াও করে এসটিএফ। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতেই মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত শনিবার গভীর রাতে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল থানা এলাকার বহুলায় ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত আবাসনে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডার

ইসিএলের পরিত্যক্ত ওই ডেরা থেকে গোয়েন্দারা মোট ১৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে:

  • ১১টি পিস্তল

  • ৩টি পাইপগান

  • ১টি রিভলভার

  • এছাড়াও অস্ত্রের পাশাপাশি ৫৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ বা গুলিও বাজেট করা হয়েছে।

রাজনৈতিক যোগ ও বৃহত্তর চক্রের খোঁজ

গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই বেআইনি অস্ত্র ও কয়লা কারবারের সঙ্গে শুধু শামসের বা খাইরুল একা জড়িত নয়। এর নেপথ্যে রাজ্য তথা ভিন্‌ রাজ্যের আরও প্রভাবশালী কেউ বা কোনো রাজনৈতিক নেতার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়লা চোরাচালানের কালো টাকা কোথায় বিনিয়োগ হতো এবং এই বেআইনি অস্ত্র কাদের মাধ্যমে পাচার করা হতো—সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন দিনরাত এক করে তদন্ত চালাচ্ছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।