বর্ষার মরশুমে বাড়ছে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ! জ্বর ও গাঁটে ব্যথায় ভুগছেন না তো? জেনে নিন বাঁচার উপায়

বর্ষাকাল মানেই জল জমা এবং তার হাত ধরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি। আর এই সুযোগেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন রোগবাহক মশা। বর্তমানে বর্ষার মরশুমে হু হু করে বাড়ছে চিকুনগুনিয়ার (Chikungunya) সংক্রমণ। প্রধানত এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস (Aedes albopictus) মশার কামড়েই এই রোগ ছড়ায়। ফুলের টব, বালতি, বাতিল টায়ার, কুলার বা নারকেলের খোলায় জমে থাকা পরিষ্কার জলে এই মশা ডিম পেড়ে বংশবৃদ্ধি করে।

চিকুনগুনিয়ার প্রধান লক্ষণগুলি কী কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা কামড়ানোর সাধারণত চার থেকে আট দিনের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলি শরীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। এর মূল উপসর্গগুলি হলো:

  • প্রচণ্ড জ্বর: হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা অনেকখানি বেড়ে যায়।

  • গাঁটে ব্যথা ও ফোলা ভাব: এই রোগের সবচেয়ে বড় ও কষ্টদায়ক লক্ষণ হলো গাঁটে গাঁটে তীব্র ব্যথা এবং জয়েন্ট ফুলে যাওয়া। অনেক সময় এই ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে ভোগাতে পারে।

  • অসহ্য মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি: প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা এবং পেশিতে টান ধরা বা গা-হাত-পায়ে ব্যথা থাকে।

  • ত্বকে র‍্যাশ: অনেকেরই গায়ে লালচে র‍্যাশ বা চুলকানি দেখা দেয়। (উল্লেখ্য, চিকুনগুনিয়া সরাসরি একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায় না, একমাত্র সংক্রমিত মশার কামড়েই এই রোগ হয়।)

চিকিৎসা ও করণীয়: চিকুনগুনিয়ার নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ বা চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এর চিকিৎসা মূলত উপসর্গ বা লক্ষণ কমানোর ওপরেই নির্ভর করে। চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। জ্বর ও গাঁটের ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণত প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে ডেঙ্গি বা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে এর উপসর্গ মিলে যাওয়ায় রক্ত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। নিজে থেকে কোনো ওষুধ না খেয়ে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সহজ উপায়: ১. মশার কামড় থেকে সুরক্ষা: দিনের বেলাতেই এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকে। তাই বাচ্চাদের সবসময় ফুলহাতা শার্ট এবং লম্বা প্যান্ট পরান। ২. মশারি ও নেট ব্যবহার: মশার হাত থেকে বাঁচতে জানলায় ফাইন নেট লাগান এবং শোওয়ার সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। ৩. জল জমতে না দেওয়া: বাড়ির আশপাশে বা টব, কুলার, বালতিতে যাতে জল জমে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখুন। প্রতি সপ্তাহে ঘরের জমানো জলের পাত্র ভালো করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। ৪. দরজা-জানালা বন্ধ রাখা: মশার উপদ্রব বাড়ার সময়ে (বিশেষ করে সন্ধ্যা ও সকালের দিকে) বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখাই শ্রেয়।