‘প্রশ্নপত্র ফাঁস খুনের চেয়েও মারাত্মক!’ প্রাক্তন IAS অফিসারের জামিন খারিজ করে বিস্ফোরক হাইকোর্ট

যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা মানুষ খুনের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর অপরাধ। নিট (NEET) থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই ছত্তিশগড় পাবলিক সার্ভিস কমিশন (CGPSC) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এমনই বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। মামলার সঙ্গে যুক্ত এক প্রাক্তন আইএএস আধিকারিকের জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের দুর্নীতি লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
ঠিক কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট?
ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিচারপতি বিভু দত্ত গুরুর সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, কাউকে খুন করলে মূলত একটি নির্দিষ্ট পরিবারের উপর তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতি করলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর কেরিয়ার এবং জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গোটা সমাজের উপর। তাই এই ধরনের অপরাধকে কোনওভাবেই ‘হালকা’ বা ‘সাধারণ’ অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না। এই কঠোর যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত সিজিপিএসসি-র প্রাক্তন সচিব তথা অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার জীবন কিশোর ধ্রুবর জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন।
সিবিআইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ:
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের সিজিপিএসসি রাজ্য পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ধৃত জীবন কিশোর ধ্রুব নিজের সরকারি পদের অপব্যবহার করেছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার বহু আগে অত্যন্ত গোপনীয় সেই প্রশ্নপত্র তিনি হাতিয়ে নেন এবং তা তাঁর ছেলে সুমিত ধ্রুবকে সরবরাহ করেন। এর জেরে সুমিত ধ্রুব ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি পেয়ে যান বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর নথিপত্রও উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, শুধু রাজ্য স্তরেই নয়, দেশজুড়ে নেট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও এনটিএ (NTA)-র বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের যোগ থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সিবিআই। সবমিলিয়ে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি রুখতে দেশের উচ্চ আদালতগুলির এই অনমনীয় মনোভাব যে আগামী দিনে দুর্নীতি দমনে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।