“আপনাদের কোনো ভুল নেই, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না!” মোদীর উদারতার রাজনীতিকে ধূলিসাৎ করলেন রাহুল গান্ধী

মাত্র ১৩ মিনিটের একটি নির্মেদ ও টানটান সাংবাদিক বৈঠক। বুধবার বিকেলে দিল্লির ১০ জনপথের বাইরে আয়োজিত এই প্রেস কনফারেন্স থেকেই সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের জেরে ‘আক্রান্ত’ ও প্রতিবাদী পড়ুয়াদের প্রকাশ্যে পাশে দাঁড় করালেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্প্রতি ‘ক্ষমা করে দেওয়ার উদারমনা’ রাজনৈতিক ভাষ্যকে পুরোপুরি ভোঁতা করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল।

কী বললেন রাহুল গান্ধী? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর আগে একটি ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছিলেন যে, ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হলেও তিনি তাঁদের ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে বুধবার নাম না করে মোদীকে একহাত নেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পড়ুয়াদের ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কায়দায় তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। মহিলাদের বাড়িতে গুণ্ডা পাঠিয়ে জোর করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করিয়ে বলা হচ্ছে—ক্ষমতা করে দেওয়া হলো! এই ধরনের রাজনীতি একেবারে ননসেন্স।” প্রতিবাদী পড়ুয়াদের উদ্দেশে রাহুল আরও বলেন, “আপনাদের কোনো ভুল নেই, তাই ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রশ্ন ওঠে না। আপনারা দেশ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচাতে যা করার, ঠিক সেটাই করেছেন।”

১০ জনপথে পড়ুয়াদের গর্জন: এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলের পাশে উপস্থিত ছিলেন সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মারাঠি তরুণী রিয়া অহেরি, যিনি আন্দোলনের সময় প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের গাড়ি রুখে আটক পড়ুয়াদের মুক্ত করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রিয়া বলেন, “অনেকে বলছেন আমি পুলিশকে রুখেছি, আসলে আমি ২০ জন নিরপরাধ পড়ুয়াকে মুক্ত করেছি। ন্যারেটিভ বদলান, তবেই দেশ বদলাবে।” পাশাপাশি, মুসকান শর্মা নামের আরেক আন্দোলনকারী তরুণী অভিযোগ করেন যে, তাঁর নাম ও পরিচয় নিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা চলেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার নাম দেখে বলা হলো আমি মুসলমান, তাই নাকি আমি আন্দোলন করছি! আসলে আমার পদবি শর্মা। আমি মুসকান শর্মা। আমি আন্দোলন করেছি আমার ও আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, কোনো ধর্মের জন্য নয়।” এত হামলা ও হেনস্থার পরেও এই পড়ুয়ারা যে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, আজ এই তরুণেরা সংবাদমাধ্যমের সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারলেও, দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখাতে পারছেন না। সব মিলিয়ে, রাহুলের এই সাংবাদিক বৈঠক জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।