তীব্র গরমে আরাম পেতে মেঝেতে ঘুমোচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন কোন মারাত্মক বিপদ!

তীব্র দাবদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বর্তমান সময়ে মানুষ নানা ধরনের উপায় অবলম্বন করে থাকে। এসি বা কুলার ছাড়াও অনেকেই রাতের বেলায় ঠান্ডা মেঝেতে মাদুর বা চাদর পেতে ঘুমোতে পছন্দ করেন। একটু শীতলতার ছোঁয়া পেতে এবং শরীর ঠান্ডা করতে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত আরামদায়ক মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। গরমের দিনে সাময়িক স্বস্তি পেতে গিয়ে মানুষ যে ভুলগুলি করে থাকে, তার মধ্যে মেঝেতে ঘুমানোর অভ্যাসটি অন্যতম প্রধান একটি ভুল। সঠিক তথ্য না জেনে এই ধরনের অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী করলে তা শরীরকে নানাভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই সময় থাকতেই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মেঝেতে ঘুমানোর ফলে শরীরের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। বাড়ির মেঝে সাধারণত টাইলস, মার্বেল বা সিমেন্টের তৈরি হয়ে থাকে, যা খুব দ্রুত চারপাশের ঠান্ডা শুষে নেয়। যখন কোনো ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ মেঝেতে শোন, তখন শরীরের তাপমাত্রা মাটির ঠান্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে পেশীগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং জয়েন্টের ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কোমর ব্যথা, পিঠে ব্যথা এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, মেঝেতে থাকা ধুলোবালি, অদৃশ্য ধূলিকণা বা অ্যালার্জেন সহজেই শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে, যা হাঁপানি বা ফুসফুসের নানা জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর পাশাপাশি, ঠান্ডা মেঝেতে সরাসরি ঘুমানোর ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি এবং পেশির খিঁচ ধরার মতো সমস্যাগুলি নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের বাত বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই অভ্যাসটি বিষের সমান। তাই গরম থেকে বাঁচতে ঘরের জানালা খোলা রাখা, সুতির হালকা পোশাক পরা কিংবা সঠিক হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত, কিন্তু মেঝেতে শোয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা দরকার। সুস্থ ও সতেজ থাকতে আরামের মোহে নিজের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।