‘আগে থেকেই ঠিক থাকে ম্যাচের ফল!’ নির্বাচন কমিশন ও মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে যা বললেন CJP নেতা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। রবিবার পুনেতে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপিএসসি) পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির নির্বাচনী জয় নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মোদীর সুদিন বা ঝড়ের সময়েও যে সমস্ত অঞ্চলে বিজেপি জয়ী হতে পারত না, বর্তমানে সেইসব রাজ্যেও তারা অতি সহজে একচ্ছত্র জয় হাসিল করছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
পুনেতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং দেশে সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন এই ধরনের কারচুপি ভরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কোনো মানেই হয় না। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই ফিক্স করা থাকে।” নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভোটার তালিকা ও প্রযুক্তিগত সিস্টেম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গত দশ মাসে অন্য কমিশনাররা অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশন সেই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে যে, নীতিগত আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিজেপি নেতা।
পাশাপাশি, মহারাষ্ট্রের এমপএসসি পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন দীপকে। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং লক্ষাধিক যুবকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার জেরে অবিলম্বে এমপএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যতদিন না পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি মানা হচ্ছে এবং দায়ী কর্তাব্যক্তিদের অপসারণ করা হচ্ছে, ততদিন সিজেপি এই ছাত্র আন্দোলনের পাশে থেকে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাবে। নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একযোগে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির এই শীর্ষ নেতা।