নুহের রাজপথে কড়া পাহারা! শ্রাবণের প্রথম সোমবারে মহাশোভাযাত্রা ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি!

আজ শ্রাবণ মাসের সোমবারে হরিয়ানার সংবেদনশীল অঞ্চল নুহে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ব্রজ মন্ডল জলাভিষেক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বিগত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং অপ্রীতিকর হিংসার স্মৃতিকে পিছনে ফেলে এ বছর প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণের যৌথ উদ্যোগে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রা সম্পন্ন করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সকাল ১১টায় নলহরেশ্বর মন্দির থেকে শুরু হয়ে এই সুদীর্ঘ প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ পবিত্র শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক পথ পরিক্রমা করে ঝিরকেশ্বর মন্দির হয়ে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় সিঙ্গর গ্রামের শৃঙ্গেশ্বর মন্দিরে সমাপ্ত হবে। এ বছরের এই ধর্মীয় যাত্রাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করছে।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এই মেগা শোভাযাত্রার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা তদারকির জন্য প্রায় ১৩ জন ডিএসপি এবং ১,৯২৫ জনেরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ক্যামেরার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্নিফার ডগ বা অপরাধী শনাক্তকারী কুকুর এবং অশ্বারোহী পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রতিটি গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অত্যন্ত কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করতে পুরো জেলার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ আজকের দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

শোভাযাত্রার যাত্রাপথ এবং আশপাশের বাজারগুলিতেও এর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। নুহের স্থানীয় বাজারগুলি অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় একেবারেই জনশূন্য রয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মাছ ও মুরগির দোকানগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই কড়াকড়ির মধ্যেও ভক্তদের উদ্দীপনা ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার শিবভক্ত ভোলবাবার আশীর্বাদ নিতে এবং জলাভিষেক সম্পন্ন করতে দলে দলে নুহে এসে উপস্থিত হয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে এবারের এই যাত্রায় কোনো ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। যাত্রাপথের প্রতিটি মোড়ে কঠোর ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি প্রবেশদ্বারে সন্দেহভাজন যানবাহন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ধর্মীয় যাত্রাকে ঘিরে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক চমৎকার সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভক্তদের স্বাগত জানাতে এবং তাদের আপ্যায়নের জন্য বিভিন্ন স্থানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ও স্টল স্থাপন করেছেন। পাটাউদির হরি মন্দির আশ্রমের পরিচালক মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী ধর্মদেব জি মহারাজ এবং প্রধান ইমাম উমর ইলিয়াসি সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এই যাত্রায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও হরিয়ানা সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও বিধায়কেরও এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের সহযোগিতার জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে। পুলিশ সুপার ডঃ অর্পিত জৈন এবং ডেপুটি কমিশনার অখিল কুমার পিলানি সমগ্র পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে এই ধর্মীয় যাত্রা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে।