১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা! “ওয়েলকাম তসলিমা”, ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

দীর্ঘ ১৯ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে কলকাতায় ফিরেছেন বিতর্কিত ও প্রথিতযশা লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার কলকাতায় পা রেখেই আবেগে ভাসেন তিনি। এরপর শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা জানানোর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ রাজ্যের বিশিষ্টজনেরা।

গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তসলিমাকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,

“শৃঙ্খল মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে সংবিধানের প্রতিটা স্তম্ভ সুরক্ষিত, সেখানে সবার আসার স্বাধীনতা আছে, সবার মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান ও বাক-স্বাধীনতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এখানে কোনওভাবে ধমক, চমক, ‘দেখে নেব’ এই সব জিনিস এখন অতীত হয়ে গিয়েছে। আমি আসছি শুনে ওনাকে স্বাগত জানালাম। পশ্চিমবঙ্গে যা বদলের অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা আপনি বলুন। আপনার যখন মনে হবে তখন আপনি আসবেন। আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।”

কী বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত?

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,

“আমি অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করে বসে আছি দুটো কথা বলার জন্য— ‘ওয়েলকাম তসলিমা’। তসলিমাকে ভিসা দিতে পারেনি কেউ, এটা ভাবতেই পারি না। আমরা ভাবতেই পারি না যে তসলিমার ভারতবর্ষে জায়গা হতে পারে না! যেখানে বাংলা ভাষার চর্চা হয়— ঢাকা, কলকাতা, সেখানে ‘নো এন্ট্রি’ সাইন করে দেওয়া হয়েছিল। যাক, এবার কলকাতাটা হাটল। অন্য অংশটা বলব না, সেটা কূটনৈতিক ব্যাপার হয়ে যাবে। ওঁকে যেভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কলকাতা থেকে, সেই স্মৃতি যেন আর কোনও দিন ফিরে না আসে।”

দীর্ঘ দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের এই কলকাতা প্রত্যাবর্তন এবং রাজ্য সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha