অমরনাথ যাত্রার মাঝেই রক্তে ভিজল ভূস্বর্গ! লস্কর হামলার কবলে ছত্তীসগড়ের দুই শ্রমিক

জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় এক নৃশংস জঙ্গি হামলায় দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলগামের কেল্লাম (Kellam) গ্রামের একটি ইটভাটায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দুই শ্রমিকই ছত্তীসগড়ের বাসিন্দা। তাঁদের নাম দীপক রাত্রে ও ভূপেন্দ্র কুমার। পহেলগাঁওকাণ্ডের স্টাইলেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিচয় জিজ্ঞাসা করে একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসবাদীরা।
আক্রমণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন দীপক ও ভূপেন্দ্র। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে পথেই দীপকের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান গুরুতর জখম ভূপেন্দ্র। ভয়াবহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা (LeT)। ঘটনার পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন (CASO) শুরু করেছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত পাকড়াও করতে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ দিনের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরে এটি দ্বিতীয় টার্গেটেড জঙ্গি হামলার ঘটনা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই গোটা উপত্যকা জুড়ে কড়া অভিযান ও তল্লাশি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই তিন হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে নির্বিচারে এই ধরনের ব্যাপক গণ-গ্রেফতার ও আটক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও কঠিন করে তুলতে পারে বলে কவலை প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
বর্তমানে ভূস্বর্গে পবিত্র অমরনাথ যাত্রা চলছে। এই মেগা তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে আগে থেকেই নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের নিরুপদ্রব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৭০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এমন হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে জঙ্গিরা এই নাশকতার ছক সফল করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অমরনাথ যাত্রার পবিত্র আবহকে বিঘ্নিত করতে এবং উপত্যকার শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতেই এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা। গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দারা।