হানিট্র্যাপের ফাঁদে হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব! পাক জঙ্গি যোগে গ্রেফতার তরুণী

রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে এক চাঞ্চল্যকর জঙ্গি মডিউলের হদিশ মিলল, যা সিনেমার থ্রিলারকেও হার মানাতে বাধ্য। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণ এবং নজরদারির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী শাহজাদ ভাটের সরাসরি নির্দেশে এ রাজ্যে সক্রিয় ছিল এই নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি জঙ্গি হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতাকে গ্রেফতার করার পর একের পর এক শিহরিত করার মতো তথ্য হাতে পেয়েছেন স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) আধিকারিকরা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে টানা জেরা করার পরই অর্পিতার নাম উঠে আসে। এরপরই বেঙ্গল এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়ে ওই তরুণী। তদন্তকারী সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহার করে পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত হামিম ও অর্পিতা। তাদের মূল কাজ ছিল নতুন রিক্রুটমেন্ট করা, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো এবং তাঁদের সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শুধু নজরদারি বা তথ্য সংগ্রহই নয়, হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের অপহরণ করার সুনির্দিষ্ট অ্যাসাইনমেন্টও ছিল অর্পিতার ওপর। কাদের টার্গেট করা হবে এবং কীভাবে রেইকি করতে হবে, তার সমস্ত গাইডলাইন আসত সরাসরি পাকিস্তান থেকে। এই নাশকতামূলক ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে পাক হ্যান্ডলারদের পক্ষ থেকে কীভাবে এবং কোন চ্যানেলে অর্থায়ন করা হতো, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, শাহজাদ ভাট গোষ্ঠীর জাল কেবল এ রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নয়ডা এবং দিল্লির মতো বিভিন্ন রাজ্য থেকেও এই মডিউলের একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন রাজ্যের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)। এবার পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও এই পাক মডিউলের শেকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা উদঘাটনে তৎপর হয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। কোন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই চক্রের নিশানায় ছিলেন এবং এই মডিউলের সঙ্গে আর কারা কারা সরাসরি যুক্ত রয়েছে, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা চলছে।