চাকরির টোপে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোর করে যুদ্ধে পাঠানো! পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল শীর্ষ আদালত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে পড়া, আহত কিংবা প্রাণ হারানো ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারকে সমস্তরকম আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য প্রদান করার জন্য বিদেশ মন্ত্রককে (MEA) অবিলম্বে একজন বিশেষ নোডাল অফিসার নিয়োগ করার কঠোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী নির্দেশ জারি করেছে। ট্র্যাভেল এজেন্টদের লোভনীয় প্রতারণার শিকার হয়ে যারা রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন, সেই সমস্ত বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতেই শীর্ষ আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ডিএনএ ভেরিফিকেশন এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা

আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, নিযুক্ত নোডাল অফিসারের যোগাযোগের সমস্ত বিবরণ মৃত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দ্রুত শেয়ার করতে হবে। নিহতদের দেহ সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ডিএনএ ম্যাচিং বা ভেরিফিকেশনের পরেই সমস্ত দেহ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা যাবে।

পাশাপাশি, রুশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে। এই নির্দেশিকা স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের সমস্ত আবেদন বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমেই করতে হবে, তবে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জেরে যেন মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বা শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে কোনওভাবেই বিন্দুমাত্র দেরি না হয়। এছাড়া, রাজ্য লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিগুলোকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাশিয়া থেকে আসা দেহ হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র অনুবাদ করে দেওয়ার গুরুদায়িত্বও নিতে হবে বিদেশ মন্ত্রককে।

মামলার নেপথ্য কাহিনী ও প্রতারণার ভয়াবহ জাল

আদালত তার পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বহু ভারতীয় যুবক ভালো বেতনের চাকরির আশায় রাশিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের নির্মাণ, হোটেল বা অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরেই তাঁদের পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি করে সোজা যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দেওয়া হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের নৃশংসতায় বহু তরুণ ভারতীয় প্রাণ হারালেও সঠিক শনাক্তকরণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই অমানবিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য এবার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।