“NEET-এ ৩টি মার্কশিট পাওয়ার আজব দাবি!”-হাইকোর্টে হাতেনাতে ধরা পড়ে শ্রীঘরে যাওয়ার জোগাড় পরীক্ষার্থীর

নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তিনটি পৃথক মার্কশিট পাওয়ার চাঞ্চল্যকর ও আজব অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক পরীক্ষার্থী। কিন্তু মামলার শুনানিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পেশ করা তথ্যে সামনে এল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রোমহর্ষক চিত্র। আদালতে এনটিএ জোরালোভাবে প্রমাণ করে দেয় যে, আবেদনকারীর জমা দেওয়া সমস্ত মার্কশিট, স্কোরকার্ড এবং ওএমআর (OMR) শিট পুরোপুরি জাল ও বিকৃত। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলাটি খারিজ করে দেন এবং অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনটিএ-কে নির্দেশ দেন।

এনটিএ-র চাঞ্চল্যকর তথ্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন এনটিএ-র আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানান যে, আবেদনকারীর করা অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। সংস্থার তরফে আদালতে জমা দেওয়া নথি যাচাই করে জানানো হয়, ওই পরীক্ষার্থীর জমা দেওয়া স্কোরকার্ডটি আদতে ২০২৬ সালের নয়, বরং আগের বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের। শুধু তাই নয়, যে ওএমআর শিটটি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও জাল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। সংস্থার সাফ দাবি, ভুয়ো নথি জমা দিয়ে সরাসরি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন ওই পরীক্ষার্থী।

মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা অত্যন্ত কড়া পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদালতের পবিত্র আঙিনায় জাল নথি পেশ করে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগের বিষয়। এই কঠোর পর্যবেক্ষণের পরই মামলাটি খারিজ করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারপতি।

৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারন পরীক্ষার্থী

আদালতের কড়া বার্তার পাশাপাশি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়মাবলী ও প্রোটোকল মেনে ওই অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য ওই পরীক্ষার্থীকে এনইইটি (NEET) পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে ঘিরে নানা বিতর্ক মাথাচাড়া দিলেও, এই ঘটনায় জালিয়াতির অভিযোগ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের এই কঠোর অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।