“বিদেশে পালিয়েছেন টুলু মণ্ডল!”-উদ্ধার ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৮৩ ট্রাক ও একাধিক দামি গাড়ি

বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডল বর্তমানে পলাতক। রাজ্য পুলিশের কড়া পদক্ষেপে তাঁর মোট ৯৩ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি সাহায্য ও মদত ছাড়া এত বড় অবৈধ র‍্যাকেট চালানো অসম্ভব ছিল। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “হেড অফ দ্য ইনস্টিটিউশন যদি চায়, তবেই দুর্নীতি হয়; না চাইলে হয় না।”

নবান্নে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে টুলু মণ্ডলের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই পুলিশ ফ্রিজ করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৮৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। এছাড়া নগদ গোনার ৩টি মেশিন, সিপিইউ, মানি রিসিট, চেক বুক এবং একাধিক রোড চালান উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, টুলুর সংগ্রহে রয়েছে ৮৩টি ট্রাক এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি যেমন— বিএমডব্লিউ (BMW), মার্সিডিজ ও অডি। এখনও পর্যন্ত তাঁর ২১টি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যার মধ্যে ৭টি বাড়ি ও ১টি ফার্মহাউসসহ মোট ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। এই সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সম্ভবত গত ৪ মে-র পরেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন এই পাথর ব্যবসায়ী।

মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস

উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বুধবার প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। ওই ঘটনায় মিনারকে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনার আসল মালিক আসলে টুলু মণ্ডলীই।

সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই এই টাকার পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যের সরকারি আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে জোর করে জমি আত্মসাৎ ও তোলা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে টুলুর বিরুদ্ধে। পাথর ও বালির খাদানের সমস্ত অনিয়ম এবং অবৈধ কারবারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। আইন মেনেই এই মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।