“ক্ষমতা থাকলে ক্ষমা চাইব না!” বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অমিত শাহের দিকে সরাসরি আঙুল তুললেন রাহুল গান্ধী

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হওয়া পড়ুয়াদের উপর পুলিশি হিংসা ও ‘বর্বর’ আক্রমণের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। লোকসভায় নিজের করা বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে—এমন চাপ আসতেই তা স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার কংগ্রেস সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি বা আরএসএস-এর কাছে তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কী বললেন রাহুল?
এদিন লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে তাঁকে নিজের বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। উল্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কিরেন রিজিজুকে বারবার বলতে সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁর কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।
রাহুলের দাবি, তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যদি ক্ষমা চান, তবেই তাঁকে বলতে দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল ক্ষমা চাইতে। কিন্তু রাজনাথ সিং বা আরএসএস-বিজেপির কাছে ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনো ভুল কাজ আমি করিনি, তাই ক্ষমা চাইবও না।”
পুলিশের নৃশংসতা ও এইমস-এর রিপোর্টের প্রসঙ্গ
ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি অত্যাচারের বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরে রাহুল জানান, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের ওপর পুলিশ পেলেট গান, রড ও কাঁটাযুক্ত লাঠি ব্যবহার করেছে। এমনকি তরুণী শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপরও অমানবিক লাঠিচার্জ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পুলিশি হিংসায় পেলেট গানের গুলিতে এক তরুণীর চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হয়েছে। এই সংক্রান্ত এইমস (AIIMS)-এর মেডিকেল সার্টিফিকেট তাঁর কাছে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সরাসরি অমিত শাহের দিকে নিশানা
এদিনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, সংসদ ভবনে তিনি নিজে দেখেছেন কীভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন এবং মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। রাহুলের তোপ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয় নিজেই এই বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন, অথবা তাঁর নির্দেশেই পুরো ঘটনা ঘটেছে, কিংবা তিনি গোটা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর তোলা এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে সংসদ ও রাজপথ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।