বারুইপুরকাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য, ‘আমাকে কেন নজরবন্দি?’ বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত বারুইপুর এলাকায় জনরোষের শিকার হয়ে এক যুবকের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। গণপিটুনির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছে প্রশাসন। তিনি দাবি করেন, কালীঘাটে তাঁর এবং অভিষেকের বাড়ির সামনে আচমকা বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি রাজ্য প্রশাসনকে প্রশ্ন করেন, “আমি তো এখন একা, আমাকে নিয়ে এত চিন্তা কেন? আমাকে কেন নজরবন্দি করা হয়েছে? আমি কি চোর না ডাকাত? এত ভয় পাচ্ছেন কেন?”
মমতার অভিযোগ, তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি দেখা করতে যাবেন। কিন্তু এরপরই তাঁর বাড়ির নিরাপত্তার বহর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে রুটমার্চ করানোর যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, এটি নিছকই তৃণমূলের একটি ‘নাটক’। তিনি বলেন, “অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এই ধরণের নাটক করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ কি বলেছে তিনি বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না? অযথা ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”
বর্তমানে বারুইপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নাবালিকার খুনের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে নির্যাতিতার মৃত্যু এবং তার পরের ঘটনাপ্রবাহে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে আক্রমণ করছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসন এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।