শর্মিলার জীবনে ‘নবাবি’ বিপর্যয়, প্রাণনাশের হুমকি থেকে লিভ-ইন, গোপন প্রেমপর্ব ফাঁস করলেন অভিনেত্রী!

বলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম রোমান্টিক রূপকথার নাম শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদি। ৪৩ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর ২০১১ সালে টাইগারের প্রয়াণে সেই মোহময়ী ইতিহাসের ইতি ঘটে। কিন্তু এই রাজকীয় প্রেমের নেপথ্যে ছিল এক দীর্ঘ লড়াই, যা আজও সাধারণের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি সাংবাদিক বরখা দত্তের অনুষ্ঠানে শর্মিলা ঠাকুর তাঁর জীবনের সেই কঠিন দিনগুলির কথা তুলে ধরলেন, যা শোনার পর অনেকেরই ধারণা বদলে যাবে।
শর্মিলা জানান, তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক কোনো ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ ছিল না, বরং ছিল গভীর এক টান। একে অপরকে বোঝার জন্য এবং ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝে সময় কাটানোর জন্য বিয়ের আগেই তাঁরা ‘লিভ-ইন’ করতেন। সেই সময়ের ঘরোয়া স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমি ঘর গোছাতে একেবারেই আনাড়ি ছিলাম। বাড়িতে তেমন কিছুই ঠিকঠাক চলত না, তাই টাইগার প্রায়ই ‘ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়া’তে গিয়ে স্নান করে আসত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি সব শিখে নিয়েছিলাম।”
কিন্তু এই লিভ-ইন ও ভিন্নধর্মী বিয়ে তৎকালীন সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে ছিল এক বড়সড় বিতর্কের বিষয়। শর্মিলার কথায়, “সংবাদমাধ্যম আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রচণ্ড নেতিবাচক ছিল। তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, এই বিয়ে ১৫ মাসের বেশি টিকবে না। যশ চোপড়ার মতো কাছের মানুষেরাও আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, নবাবদের বিশ্বাস করা কঠিন।”
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শর্মিলা জানালেন, তাঁদের বিয়ের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এতটাই যে, তাঁর বাবা-মায়ের কাছে উড়ো টেলিগ্রাম আসতে শুরু করে। তাতে স্পষ্ট লেখা ছিল—‘এবার বুলেট কথা বলবে’। নিরাপত্তার খাতিরে শেষ মুহূর্তে বিয়ের ভেন্যু পর্যন্ত বদল করতে হয়েছিল তাঁদের।
লন্ডন থেকে পাঠানো এয়ার কন্ডিশনার কিংবা গোলাপের সুবাসে ঢাকা প্রেমের দিনগুলোতে পতৌদির অদ্ভুত রসবোধের কথাও ভুলতে পারেননি শর্মিলা। হাসি মুখে বলেন, “ওর রসবোধ ছিল একেবারেই অন্যরকম। নিজের জোকসেই ও নিজে হাসত, কারণ আমরা কেউ সেগুলো বুঝতেই পারতাম না।” তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল এক অগাধ বিশ্বাস। শর্মিলা মনে করেন, সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ভরসা। তিনি জানতেন, পতৌদি কখনও তাঁকে আঘাত করবেন না। চোখ বন্ধ করে এই ভরসা করার ক্ষমতার ওপর ভর করেই তাঁরা পার করেছিলেন ৪৩ বছরের এক অসাধারণ জার্নি। আজ যখন শর্মিলা এসব কথা বলেন, তখন সেই নবাব দম্পতির ভালোবাসা আরও একবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে নবীন প্রজন্মের কাছে।