“৪০-এও কুড়ি বছরের মতো তরুণ থাকবেন”-যোগ দিবসে ১০ পয়েন্টে জেনে নিন PM মোদীর ব্যাখ্যা

‘যোগাসন শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি জীবনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিল্প।’ ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে এভাবেই যোগের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের পুণ্যভূমি বাংলাকে যোগ দিবসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানান।

রেড রোডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ বার্তা:

১. ঐক্যের সেতুবন্ধন: প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাসন মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। আজ ২১ জুন, যা কেবল বছরের দীর্ঘতম দিনই নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্বণ হিসেবে পরিচিত।

২. বাংলার প্রতি কৃতজ্ঞতা: কলকাতার মানুষের স্বচ্ছ এবং আন্তরিক অভ্যর্থনায় আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেড রোডের এই আয়োজন সফল করতে কলকাতা যেভাবে পরিশ্রম করেছে, তা প্রশংসনীয়।

৩. যোগই জীবন: শ্রী অরবিন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যোগ মানেই মানব চেতনাকে জাগ্রত করা। এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মিশে থাকা এক প্রক্রিয়া।

৪. সুস্থতার চাবিকাঠি: যোগ শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাঁর মতে, গীতাতেও যোগের মাহাত্ম্য বর্ণিত রয়েছে। একে কেবল একদিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি।

৫. বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণ: বর্তমানে ১৩০টি দেশের ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সমাজ সুস্থ থাকলে তবেই রাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

৬. জীবনের ভারসাম্য: যোগ আমাদের শেখায় কী করণীয় আর কী বর্জনীয়। এটি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শরীর ও মন সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

৭. বার্ধক্যের নতুন সংজ্ঞা: ‘সুস্থ বার্ধক্য’ কেবল বয়স্কদের জন্য নয়, এটি তরুণ ও শিশুদের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক। যোগাভ্যাস মানুষকে আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে শেখায়।

৮. বয়সকে হার মানানোর কৌশল: প্রধানমন্ত্রীর কথায়, বয়সের সংখ্যা বাড়ে মানেই কার্যক্ষমতা কমবে, এমনটা নয়। যোগাভ্যাস মানুষকে নমনীয় এবং উদ্যমী থাকতে সাহায্য করে।

৯. ৪০-এ ২০-এর প্রাণশক্তি: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সঠিক যোগাভ্যাসে ৪০ বছর বয়সেও ২০ বছরের সমান এনার্জি বজায় রাখা সম্ভব। ৫০ বছর বয়সে ৩০-এর তুলনায় বেশি উদ্যম এবং ৭০ বছর বয়সে ৪০-এর চেয়েও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়।

১০. ইতিবাচক জীবনধারা: নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের শরীর ও মনের সামগ্রিক উন্নতি ঘটিয়ে এক ইতিবাচক জীবনযাপনের পথ দেখায়, যা আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে অত্যন্ত জরুরি।

রেড রোডের এই অনুষ্ঠানটি কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এক সুস্থ ও নিরোগ সমাজ গড়ার বার্তা পৌঁছে দিল। প্রধানমন্ত্রী আবারও মনে করিয়ে দিলেন, যোগের কোনো বিকল্প নেই এবং বয়সের সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেকে সুস্থ রাখাই হোক আজকের দিনের মূল লক্ষ্য।