নিজের অস্ত্রে নিজেই বিদ্ধ মমতা: পিএসি-র গদিতে কি ফিরহাদকে বসিয়ে বড় চমক দিতে চলেছে বিরোধীরা?

রাজ্য বিধানসভায় পিএসি-র চেয়ারম্যান পদ সাধারণত প্রধান বিরোধী দলের কাউকে দেওয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল এই পদে তাদের ‘পছন্দের’ বিরোধী বিধায়কদের বসিয়ে অস্বস্তিতে ফেলত বিরোধীদের। এখন সেই পথেই হাঁটছে ‘ঋত-পন্থী’ শিবির।
ফিরহাদের অবস্থান: কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট। বিধানসভায় তাঁকে নিয়মিতভাবে বিরোধী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে দেখা যাচ্ছে, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মুকুল মডেলের পুনরাবৃত্তি: অতীতে মুকুল রায় বা সুমন কাঞ্জিলালকে ব্যবহার করে যে কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল, এবার ফিরহাদ হাকিমকে সেই পদে বসিয়ে শাসকদলকে পাল্টা কোণঠাসা করার পরিকল্পনা চলছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
রাজনৈতিক ধাক্কা: খাতায়-কলমে ফিরহাদ এখনও তৃণমূলের বিধায়ক। ফলে তাঁর মতো একজন হেভিওয়েট নেতাকে যদি বিরোধীরা পিএসি চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেয়, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
কেন অস্বস্তিতে শাসকদল?
যদি ফিরহাদ হাকিম সত্যিই এই পদে বসেন, তবে রাজ্য সরকারের আয়-ব্যয়ের ওপর নজরদারি চালানোর ক্ষমতা চলে যাবে মমতার একসময়ের ‘ছায়া-সঙ্গী’র হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ক্ষমতার হস্তান্তর নয়, বরং তৃণমূল সুপ্রিমোর নিজের তৈরি অস্ত্রেই তাঁর দল ও সরকার যে বিদ্ধ হতে চলেছে, তারই প্রতিফলন।
এখন গোটা রাজ্য তাকিয়ে রয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। জল্পনা সত্যি হলে, এটি হবে তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।