বিয়ের ৪৭ দিন পরেই বধূর রহস্যমৃত্যু! শ্বশুরবাড়ির ‘পন-কাহিনি’ ফাঁস হতেই শোরগোল

বিয়ে হয়েছিল গত ৩০ এপ্রিল। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু মাত্র ৪৭ দিনের মাথায় সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। মৃত বিশাখা তিলকারের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বছর ছাব্বিশের ওই তরুণী। এই ঘটনায় মৃতার স্বামী ড. নিতীন তিলকার, শাশুড়ি এবং দেওরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে উভয় পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও, বিয়ের পরেই আসল রূপ বেরিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের। উপহার হিসেবে পাওয়া গয়না ও নগদ টাকার বাইরেও বাপের বাড়ি থেকে বাড়তি পণ আনার জন্য নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো বিশাখাকে। নিতীন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি ছিল, বাপের বাড়ি থেকে আরও সোনা ও টাকা নিয়ে আসতে হবে। সেই আবদার পূরণ না হওয়ায় চলত নির্মম মারধর।
সবথেকে চমকপ্রদ এবং অমানবিক অভিযোগটি হলো, বিশাখার প্রতিটি নড়াচড়ার ওপর নজরদারি চালানোর জন্য শ্বশুরবাড়ির ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিশাখাকে প্রতিনিয়ত কটুক্তি করত তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি। প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বললেও তাঁকে সহ্য করতে হতো চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
ঘটনার চরম পরিণতি ঘটে মৃত্যুর ঠিক দুদিন আগে। এক প্রতিবেশীর সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা বলার ‘অপরাধে’ তাঁকে অমানুষিক মারধর করা হয়। এর পরই গত মঙ্গলবার ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিশাখার নিথর দেহ। স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত্যুর আগে নিজের ওপর চলা চরম নির্যাতনের কথা বিশাখা বাপের বাড়ির সদস্যদের জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশি হেপাজতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুটেজ পরীক্ষা করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বিয়ের পর ওই নববধূর ওপর কী ধরনের অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই অম্বরনাথ এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিয়ের দু’মাসের কম সময়ের মধ্যে কেন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন। ঘটনার মোড় যেদিকে ঘুরছে, তাতে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।