চলে গেলেন ‘দ্য রিং’-এর সেই আইকনিক ভূতুড়ে কন্যা, ৩৫ বছর বয়সেই নিভে গেল ডেভি চেজের জীবন প্রদীপ

বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে জীবনাবসান হলো জনপ্রিয় আমেরিকান অভিনেত্রী ডেভি চেজের। ‘দ্য রিং’ সিনেমায় টেলিভিশন স্ক্রিন থেকে বেরিয়ে আসা সেই লম্বা চুলের ভূতের চরিত্রে অভিনয় করে যিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি কুড়িয়েছিলেন, সেই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে। অভিনেত্রীর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার জন রায়ান জুনিয়র এই মর্মান্তিক খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন অভিনেত্রী। ম্যানেজার জন রায়ান জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে চেজকে অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেনিনজাইটিস থেকে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতা পরবর্তীতে রক্তপ্রবাহের সংক্রমণে রূপ নেয়। শেষপর্যন্ত সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

অভিনেত্রীর ১৫ বছরের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ম্যানেজার জন রায়ান তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেন, “মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি বিড়ালদের ভীষণ ভালোবাসতেন এবং আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন পশু উদ্ধারকারী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।” রায়ান আরও জানান, চেজ হলিউডের গ্ল্যামারের জগতের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। অনেক সময় বড় স্টুডিওর সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি স্বাধীন প্রজেক্টে কাজ করতে পছন্দ করতেন। “সে খুব একটা হলিউডি ধাঁচের ছিল না। সাধারণ জীবন যাপন করতেই সে ভালোবাসত। বিড়ালদের নিয়ে সময় কাটানো বা প্রিয় জায়গায় খাওয়া-দাওয়া—এতেই সে সুখী ছিল। অভিনয় তার কাছে শিল্প ছিল, খ্যাতি নয়।”

উল্লেখ্য, ডেভি চেজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল হরর ফিল্ম ‘দ্য রিং’-এ সামারা মরগান চরিত্রটি। টেলিভিশন থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসা সেই বিভীষিকাময় রূপ আজও দর্শকদের মনে শিহরণ জাগায়। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি ছিল একটি জাপানি ক্লাসিকের আমেরিকান রিমেক। নিজের অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে সেরা খলনায়িকা হিসেবে এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড জয় করেছিলেন তিনি। ২০০২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেজ বলেছিলেন, “সামারা চরিত্রটি গতানুগতিক নয়। এটি বেশ আকর্ষণীয় এবং চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি কণ্ঠস্বরের মাধ্যমেই চরিত্রটিতে এক অদ্ভুত ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম।”

শুধু ভৌতিক সিনেমাই নয়, অ্যানিমেটেড হিট ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এ হাওয়াইয়ান মেয়ে লিলোর কণ্ঠ দিয়েও তিনি জয় করেছিলেন অগুনতি শিশুর মন। সেই ভূমিকার জন্য তিনি ‘অ্যানি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এছাড়াও ‘চার্মড’, ‘ইআর’, ‘টাচড বাই অ্যান অ্যাঞ্জেল’-এর মতো জনপ্রিয় টিভি শো এবং এইচবিও-র ‘বিগ লাভ’ ড্রামা সিরিজে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। আজ তাঁর প্রয়াণে বিনোদন জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় ঘটল।