গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকতেই খোদ প্রাক্তন কাউন্সিলরকে তাড়া! দুর্গাপুরের ডিপিএল কলোনিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড

পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে রবিবার রাতে এক চাঞ্চল্যকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোক ওভেন থানা এলাকার ডিপিএল কলোনিতে তৃণমূলের এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটের পর থেকেই এলাকায় দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ এলাকায় প্রবেশ করায় স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ওই নেতার উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের সেলও ছুড়তে হয়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর শশাঙ্ক শেখর মণ্ডল এবং তাঁর দাদা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবরদস্তির চালাতেন বলে তীব্র ক্ষোভ জমছিল স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রকাশ্যে এলাকাছাড়া ছিলেন এবং তাঁকে আর সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তবে রবিবার গভীর রাতে তিনি যখন হঠাৎ করেই নিজের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেন, তখনই ওই খবর চাউর হয়ে যায়।
নেতার ফেরার খবর পেতেই মুহূর্তের মধ্যে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দলে দলে মানুষ এসে শশাঙ্ক শেখর মণ্ডলের বাড়িটি পুরোপুরি ঘিরে ফেলেন এবং তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। ক্ষুব্ধ জনতা নিমেষের মধ্যে ওই নেতার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্র ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। গোটা এলাকায় এক ভীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা দেখতে দেখতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোক ওভেন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে মৃদু লাঠিচার্জ শুরু করে। তবে জনরোষ এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশকে অবশেষে লাঠিচার্জের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের সেলও নিক্ষেপ করতে হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন সাধারণ বিক্ষোভকারী ও পথচারী আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর শশাঙ্ক শেখর মণ্ডলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ গোটা ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, এই ঘটনার রেশ ধরে বিরাটি এলাকায় যশোর রোডের ধারে একটি গাড়ির সার্ভিস সেন্টারে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবরও সামনে এসেছে, যেখানে ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আগুন লাগার পর দমকলের আটটি ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালায়। দুর্গাপুরের এই রাজনৈতিক ও জনরোষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।