বাজেট নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা! রাজামৌলির ‘বারাণসী’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড, নাকি বাড়বে ঝুঁকি?

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক নিয়ে আসছেন পরিচালক এস এস রাজামৌলি। তাঁর প্রতীক্ষিত ছবি ‘বারাণসী’ নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের উন্মাদনার শেষ নেই। ‘আরআরআর’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। মহেশ বাবু ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার রসায়ন এবং পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের খলচরিত্রে অভিনয় দেখার জন্য মুখিয়ে আছে দর্শক। কিন্তু ১২০০ থেকে ১৩০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি এখন বাজেটের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ‘১২৩তেলুগু’র একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিনেমার শুটিং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে। বর্তমানে রাজামৌলি ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে ব্যস্ত। তবে সিনেমার বিশালত্ব বজায় রাখতে গিয়ে বাজেট প্রাথমিক হিসেবকে ছাপিয়ে গেছে। নির্মাতাদের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ হলেও, রাজামৌলির কাজের ধরণ যারা জানেন, তাঁদের কাছে এটি নতুন কিছু নয়। তাঁর ছবিতে বাজেট ছাপিয়ে যাওয়া একটি পরিচিত ঘটনা। পরিচালক বরাবরই বাজেটের চেয়ে সিনেমার মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, যা তাঁর আগের ছবিগুলোকে বিশ্বজুড়ে ব্লকবাস্টারে পরিণত করেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ছবির জন্য পরিচালক রাজামৌলি কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেননি। এমনকি নায়ক মহেশ বাবুও কোনো অগ্রিম বা নির্দিষ্ট অংকের সম্মানী গ্রহণ করেননি। তাঁরা দুজনেই ছবির লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ নেবেন—অর্থাৎ ‘প্রফিট শেয়ারিং’ মডেলের চুক্তিতে কাজ করছেন। মূলত সিনেমার বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবুও বাজেট যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাণিজ্যিক সাফল্যের ঝুঁকি কি বাড়ছে না?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজামৌলির ছবির ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং এবং বিশাল ক্যানভাস এতটাই চিত্তাকর্ষক যে, তা মুক্তির আগেই থিয়েটার ডিল ও বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে বড় অংশ বাজেট তুলে নিতে সক্ষম হয়। ‘বারাণসী’ যদি ১২০০-১৩০০ কোটির সীমা পেরিয়ে যায়, তবে ছবির সাফল্যের চাপ অনেকটাই বেড়ে যাবে। তবে রাজামৌলির ওপর দর্শকদের যে অগাধ আস্থা, তাতে অনেকেই মনে করছেন, বাজেট যাই হোক না কেন, ছবিটি বক্স অফিসে ইতিহাস গড়বে। আপাতত ক্যামেরার পেছনে রাজামৌলির নিখুঁত পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করছে ভারতীয় সিনেমার এই মহাযজ্ঞের ভবিষ্যৎ।