উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরার প্রস্তুতি সিআইডির, বাড়ছে চাপ

ভোটের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। একের পর এক জনসভা থেকে রাজনৈতিক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের ধার বাড়ছে। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, ভগবানপুরের জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন, তা উস্কানিমূলক। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআইডি।

ভবানী ভবন সূত্রে খবর, গত ১৬ এপ্রিল ভগবানপুরের জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আপনি যদি বাপের বেটা হন, ৪ তারিখ দুপুরে বাংলায় আর কলকাতায় থাকবেন। ১২ টার পর আপনার সঙ্গে দেখা হবে। ৪ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ১ টার পর থেকে ডিজে বাজবে। রবীন্দ্র সংগীতের সুরে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য সরাসরি প্ররোচনামূলক। শুধু ভগবানপুর নয়, আরামবাগ এবং মগরাহাটের জনসভাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একই ধরণের বক্তব্য রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সিআইডি কর্তারা উক্ত জনসভাগুলোর ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছেন এবং তা বারংবার পরীক্ষা করে দেখছেন। শুধুমাত্র বক্তব্যের বিষয়বস্তু নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি শব্দ চয়ন এবং সেই সময়কার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও সিআইডির বিশেষ নজরবন্দি।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এই মন্তব্যগুলো যখন নতুন করে আইনি জট পাকাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিও সক্রিয় হয়েছে। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডির সদর দপ্তরে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই ইডির তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থা সংক্রান্ত আর্থিক তথ্যাদি ইডির কাছে এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রের খবর, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া সংক্রান্ত নতুন নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অতীতে এই সংস্থা নিয়ে যে পরিমাণ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার নেপথ্যে কোনো আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই নথি তলব। ইডি এবং সিআইডি—দুই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার চাপ ও তদন্তের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আইনি লড়াই এখন এক নতুন বাঁকের দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে জনসভায় করা মন্তব্যের জন্য আইনি নোটিশ বা জিজ্ঞাসাবাদের আশঙ্কা, অন্যদিকে সংস্থার নথি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি—সব মিলিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ এখন তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, সিআইডি-র জেরার মুখে অভিষেক কী সাফাই দেন এবং তদন্তকারী সংস্থার তলব করা নথিগুলোতে কী তথ্য উঠে আসে।