তৃণমূল ছেড়ে ২০ সাংসদ যোগ দিলেন এনসিপিআই-তে! ভারতের রাজনীতিতে নতুন দলের জন্ম কি এতই সহজ?

রবিবার থেকে আচমকা ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে এনসিপিআই (NCPI) বা ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি অফ ইন্ডিয়া। ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এই দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছেন, কোথায় এই দলের অস্তিত্ব, কী এদের প্রতীক বা আদৌ কি তারা কোনোদিন নির্বাচনে লড়াই করেছে? ভারতের মতো দেশে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা এবং তা পরিচালনা করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে থাকে।

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলের গঠন প্রক্রিয়া এবং তার পরিচালনার পদ্ধতি বর্ণিত রয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারায়। যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন জানাতে পারেন। তবে দল গঠনের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের একটি কড়া সময়সীমা রয়েছে। দল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র কমিশনের সচিবের কাছে জমা দিতে হয়, অন্যথায় তা অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, দলের নামের সঙ্গে কোনো ধর্ম বা জাতির নাম থাকা চলবে না। দ্বিতীয়ত, দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হতে হবে ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তৃতীয়ত, সদস্যপদ সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র। দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে কোনো একজনের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকা চলবে না। প্রতিটি পদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পদের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হতে পারবে না। নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে পদাধিকারী নিয়োগ করতে হবে এবং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবে সভার মাধ্যমেই নিতে হবে।

দল পরিচালনার ক্ষেত্রেও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতি বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব একজন সিএজি-প্যানেলভুক্ত অডিটর দ্বারা অডিট করাতে হবে এবং অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। এছাড়া, দল গঠন বা নিবন্ধনের পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে যেকোনো একটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো রাজনৈতিক দল টানা ৬ বছর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তবে নির্বাচন কমিশন সেই দলটিকে তাদের তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে পারে।

এনসিপিআই-কে ঘিরে বর্তমানে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা এই নিয়মগুলোর নিরিখেই বিচার্য। হঠাৎ কোনো দল এভাবে রাজনীতির মূলস্রোতে উঠে এলে, তার আইনি বৈধতা এবং অতীতের ট্র্যাক রেকর্ড যাচাই করা ভোটারদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় সংবিধানে দল গঠনের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সেই দল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখাও সমভাবে আবশ্যক। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই সমীকরণে এনসিপিআই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় কতটা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।