অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেলেন কারা? বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, জেনে নিন আপনার নাম আছে কি না!

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জনকল্যাণ শিবিরের কার্যক্রম। ১৫ জুন নন্দীগ্রামের বেয়াপাড়ার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন নির্বাচনী ইশতেহারে জানানো হয়েছিল যে, মমতা সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা দেওয়া হবে এই প্রকল্পে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন যোগ্য উপভোক্তারা।

জুনের শুরু থেকেই সরকারি পোর্টাল চালুর পর থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। বহু মানুষের মনেই প্রশ্ন ছিল, ঠিক কতজন এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ইতিমধ্যে প্রায় ৭৯ লক্ষ মা-বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সফলভাবে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে।

তবে এদিন প্রকল্পের নিয়মকানুন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল তথ্য ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরেই সরকারি উন্নয়নমূলক যোজনার সুবিধা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে, যে সব আবেদনকারী সন্তানদের টিকাকরণ করাননি বা টিকাকরণ নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মাবলি আরও কঠোর হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে, শুধুমাত্র তাঁদেরই এই ভাতা প্রদান করা হবে।

এর আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু জটিলতা দেখা গিয়েছিল। সেই সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে ফর্ম ফিলাপের পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে এবং পুরো ১২ পাতার ফর্ম পূরণ না করলেও আবেদনের সুযোগ থাকছে।

যারা এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চান, তাঁরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://socialsecurity.wb.gov.in-এ গিয়ে নিজের নথিপত্র দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মহিলাদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।